অফিস যাওয়া-আসার খরচ এখন অনেকের মাসিক বাজেটের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। জ্বালানির দাম, ক্যাব ভাড়া, টোল, পার্কিং— সব মিলিয়ে প্রতিদিনের অফিসযাত্রা হয়ে উঠছে ক্রমশ ব্যয়বহুল। এর মাঝেই দেশবাসীকে জ্বালানি বাঁচানোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। আর সেই সূত্রেই ফের আলোচনায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে মাত্র দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করলেও বছরে কয়েক হাজার টাকা সঞ্চয় সম্ভব।
![]()
সপ্তাহে কয়েকদিন বাড়ি থেকে কাজেই বড় সাশ্রয়
ধরুন, প্রতিদিন অফিস যেতে আপনার খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। সেই হিসাবে মাসে যদি মাত্র ৮ দিন বাড়ি থেকে কাজ করা যায়, তাহলে সাশ্রয় হতে পারে প্রায় ২,৪০০ টাকা। বছরে সেই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩০,০০০ টাকায়।এই অর্থ জরুরি তহবিল, পরিবারের প্রয়োজন বা বিনিয়োগ— যে কোনও ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই কমবে বড় খরচ
নিজস্ব গাড়ির বদলে মেট্রো, বাস বা লোকাল ট্রেন ব্যবহার করলে জ্বালানি ও পার্কিংয়ের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিনের অফিসযাত্রায় এই ছোট পরিবর্তন মাস শেষে বড় সঞ্চয়ে পরিণত হতে পারে।বিশেষত শহরাঞ্চলে যেখানে ট্রাফিক জ্যাম নিত্যদিনের সমস্যা, সেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সময়ও বাঁচাতে পারে।
কারপুলে ভাগ হবে খরচের বোঝা
একই এলাকার সহকর্মীদের সঙ্গে এক গাড়িতে অফিস গেলে পেট্রোল, টোল ও পার্কিংয়ের খরচ ভাগ হয়ে যায়। ফলে একার উপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে।এছাড়াও গাড়ির অতিরিক্ত ব্যবহার কম হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কমে যায়।
![]()
অফিস বাস বা শাটল পরিষেবাই সবচেয়ে সুবিধাজনক
অনেক সংস্থা কর্মীদের জন্য নিজস্ব বাস বা শাটল পরিষেবা দেয়। এই পরিষেবা ব্যবহার করলে কম খরচে আরামদায়ক যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি আলাদা করে গাড়ি চালানোর মানসিক চাপও কমে।
অফিস ফেরত পথেই সেরে ফেলুন জরুরি কাজ
বাজার, ব্যাঙ্ক বা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা— অফিস যাওয়া-আসার পথেই যদি এই কাজগুলি সেরে নেওয়া যায়, তাহলে আলাদা করে বেরোতে হয় না। এতে জ্বালানি যেমন বাঁচে, তেমনই সময়ও বাঁচে।
পিক আওয়ার এড়ালেই কমবে ক্যাব ভাড়া
যাঁরা নিয়মিত ক্যাব বা রাইড-হেলিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য সময় একটু এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়াই হতে পারে সাশ্রয়ের বড় উপায়। কারণ ব্যস্ত সময়ে ভাড়া অনেকটাই বেড়ে যায়।অফিস টাইম সামান্য বদলালেই সেই অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব।
![]()
হাইব্রিড কাজের সুযোগকে কাজে লাগান
বর্তমানে বহু সংস্থাই হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল চালু করেছে। সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করলে জ্বালানি, মেট্রো ও ক্যাব মিলিয়ে মাসিক যাতায়াত খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।শুধু টাকা নয়, এতে মানসিক চাপও কমে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ে।
![]()
পেট্রল-ডিজেলের বাড়তি খরচের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য বড় সাশ্রয়ের পরামর্শ সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী। সপ্তাহে কয়েকদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করলে শুধু সময় নয়, বাঁচতে পারে হাজার হাজার টাকাও। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থেকে কারপুল— রইল যাতায়াত খরচ কমানোর ৭ কার্যকর উপায়।











