মদ্যপানের প্রভাব: নেশার শুরু কোথা থেকে?
মদ শরীরে প্রবেশ করার পর খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং সোজা পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। সেখান থেকেই শুরু হয় মাথা ঝিমঝিম ভাব, ভারসাম্যহীনতা ও প্রতিক্রিয়া কমে যাওয়া। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মদ্যপানের সঙ্গে বহু দুর্ঘটনা ও অপরাধমূলক ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রথম আঘাত পড়ে মস্তিষ্কে, তারপর ধীরে ধীরে প্রভাব পড়ে লিভার, কিডনি ও ফুসফুসে।
শরীরে অ্যালকোহলের পথচলা
মদ প্রথমে পেটে (স্টোমাক) যায়, সেখান থেকে ছোট অন্ত্রের উপরের অংশে (স্মল ইনটেস্টাইন) শোষিত হয়। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল এখান থেকেই রক্তে মেশে। তারপর তা পৌঁছায় লিভারে। লিভারই অ্যালকোহল ভাঙার প্রধান কেন্দ্র। বিশেষ কিছু এনজাইম অ্যালকোহলকে প্রথমে অ্যাসিট্যালডিহাইড এবং পরে অ্যাসিটেট-এ ভেঙে দেয়। শেষপর্যন্ত তা কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলে রূপান্তরিত হয়ে ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
এক গ্লাস মদ ভাঙতে কত সময় লাগে?
সাধারণভাবে ধরা হয়, একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংক’ মেটাবলাইজ করতে লিভারের প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এটি নির্ভর করে—
লিঙ্গ
ওজন
বয়স
বেসাল মেটাবলিজম রেট
লিভারের স্বাস্থ্যের উপর
অর্থাৎ, সবার ক্ষেত্রে সময় এক নয়। কারও শরীরে দ্রুত ভাঙে, কারও ক্ষেত্রে ধীরে।
ইউরিন টেস্টে কতক্ষণ ধরা পড়ে?
সাধারণ ইউরিন টেস্টে মদ্যপানের ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়তে পারে। তবে আধুনিক ও উন্নত পরীক্ষায় এই সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি হতে পারে। কিছু বিশেষ পরীক্ষায় (যেমন EtG টেস্ট) আরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অ্যালকোহলের চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব।
ব্রেথ টেস্টে কতক্ষণ ধরা পড়ে?
ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় সাধারণত মদ্যপানের ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে অ্যালকোহল শনাক্ত করা যায়। তবে বেশি মাত্রায় পান করলে এই সময় আরও বাড়তে পারে। পুলিশি তল্লাশি বা ড্রাইভিং সংক্রান্ত পরীক্ষায় এই ব্রেথ টেস্টই বেশি ব্যবহৃত হয়।
অতিরিক্ত মদ্যপানের বিপদ
গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ গ্রাম বা তার বেশি অ্যালকোহল সেবন করলে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। ৮০ গ্রাম বা তার বেশি নিয়মিত সেবনে লিভার সিরোসিসের সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া—
পাকস্থলীতে প্রদাহ
আলসার
গ্যাস্ট্রাইটিস
প্যানক্রিয়াসের ক্ষতি
সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদে নিউরোট্রান্সমিটার কাজের ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার ফলে স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়।
মদ্যপান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর—এ কথা সকলেরই জানা। কিন্তু মদ খাওয়ার পর কতক্ষণ পর্যন্ত শরীরে অ্যালকোহল থাকে? ‘ইউরিন টেস্ট’ ও ‘ব্রেথ টেস্ট’-এ কত সময়ের মধ্যে ধরা পড়ে তার উপস্থিতি? লিভার কীভাবে অ্যালকোহল ভাঙে? জেনে নিন বিস্তারিত।













