গরম পড়তেই বাড়িতে টিকটিকি, তেলাপোকা ও ছোট পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে, ফ্রিজের পেছনে বা বাথরুমের কোণে এদের দেখা মেলে বেশি। অনেকেই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করেন, কিন্তু তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মেঝে মোছার জলে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মেশালেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
কর্পূর ও লবঙ্গ তেল: তীব্র গন্ধেই পালাবে পোকা
কর্পূরের গন্ধ টিকটিকি ও আরশোলা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। পাঁচ-ছয়টি কর্পূর গুঁড়ো করে মেঝে মোছার পানিতে মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল যোগ করলে কার্যকারিতা বাড়ে। এই জল দিয়ে মেঝে মোছার পর ঘরে যে তীব্র গন্ধ তৈরি হয়, তা পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে। জানালা ও দরজার কোণায় সামান্য লবঙ্গ গুঁড়ো ছড়িয়েও রাখা যেতে পারে।
ভিনেগার ও বেকিং সোডা: কোণায় লুকোনো পোকাও বেরিয়ে আসবে
আধা কাপ সাদা ভিনেগার ও দুই চামচ বেকিং সোডা মেঝে মোছার জলে মিশিয়ে নিন। এই দুই উপাদানের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ছোট ফাটল ও কোণায় জমে থাকা ময়লার ভেতর পৌঁছে যায়। ফলে লুকিয়ে থাকা তেলাপোকা বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে ও বাথরুমের কোণে এই মিশ্রণ বেশ কার্যকর।
পেঁয়াজ-রসুনের ঝাঁঝ: প্রাকৃতিক রিপেলেন্ট
পেঁয়াজ ও রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ আমাদের কাছে স্বাভাবিক হলেও পোকামাকড় তা সহ্য করতে পারে না। পেঁয়াজ ও রসুন বেটে রস বের করে সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিন। দরজার কোণা, ফার্নিচারের পায়া বা ক্যাবিনেটের পেছনে স্প্রে করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে উপদ্রব কমে।
নুন ও লেবুর রস: সহজ কিন্তু কার্যকর সমাধান
মপের জলে চার-পাঁচ চামচ নুন ও দুইটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ দিয়ে ঘরের কোণ ও ফার্নিচারের পেছন পরিষ্কার করুন। লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান ও নুন একসঙ্গে পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে। ছোট ফাটলে স্প্রে করলে আরও ভালো ফল মেলে।
পিপারমিন্ট অয়েল: সুগন্ধেই দূরে থাকবে টিকটিকি
এক বোতল পানিতে ১০-১৫ ফোঁটা খাঁটি পিপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। রান্নাঘর, বাথরুম ও ফ্রিজের পেছনে স্প্রে করুন। পিপারমিন্টে থাকা মেন্থলের গন্ধ টিকটিকি ও তেলাপোকার কাছে অস্বস্তিকর।
তেজপাতা: নিরাপদ ঘরোয়া উপায়
রান্নায় ব্যবহৃত শুকনো তেজপাতা হাত দিয়ে একটু চূর্ণ করে কাবার্ড বা স্টোরেজ বক্সে রেখে দিন। এর গন্ধে তেলাপোকা সেই জায়গা এড়িয়ে চলে। কয়েক দিন অন্তর নতুন পাতা ব্যবহার করলে ফল ভালো হয়।
সতর্কতা: কফি-তামাক মিশ্রণ ব্যবহারে সাবধান
কফি ও তামাক মিশিয়ে ছোট বল তৈরি করে দরজার ধারে রাখা যায় বলে প্রচলিত ধারণা আছে। তবে তামাক বিষাক্ত। বাড়িতে শিশু বা পোষ্য প্রাণী থাকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
গরমে ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গার খোঁজে ঘরে ঢুকে পড়ে টিকটিকি ও আরশোলা। কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার না করে মেঝে পরিষ্কারের জলে কিছু ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে সহজেই কমানো যায় পোকামাকড়ের উপদ্রব। জানুন কার্যকর প্রাকৃতিক টিপস।













