দরভাঙায় নিরাপদ শৈশব অভিযান, শিশুদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি

দরভাঙায় শিশু সুরক্ষা সচেতনতা কর্মসূচি
দরভাঙায় নিরাপদ শৈশব অভিযান, শিশুদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি
Photo Credit / Attribution: Google

দরভাঙায় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিরাপদ শৈশব অভিযানের আওতায় একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে শিশুদের আইনি অধিকার, শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান এবং বিভিন্ন ধরনের শোষণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে জানানো হয়। পাশাপাশি গুড টাচ ও ব্যাড টাচের মধ্যে পার্থক্য বোঝানো হয়, যাতে শিশুরা নিরাপদ ও অনিরাপদ আচরণ চিহ্নিত করতে পারে।

কর্মসূচিতে শিশুদের জানানো হয়, কোনও ব্যক্তি তাদের সঙ্গে অনুচিত আচরণ করলে অথবা কোনও আচরণে তারা অস্বস্তি বোধ করলে ভয় না পেয়ে বিষয়টি বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা বিশ্বাসযোগ্য কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে জানাতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা ও সম্মান সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যক্তিরই তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনুচিতভাবে স্পর্শ করা, ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া কিংবা কোনও কাজে বাধ্য করার অধিকার নেই।

শিশুদের বোঝানো হয়, যে স্পর্শে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তা গুড টাচ। অন্যদিকে, যে স্পর্শে ভয়, অস্বস্তি বা সমস্যার অনুভূতি তৈরি হয়, তা ব্যাড টাচ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরিচিত কোনও ব্যক্তির কাছ থেকেও অনুচিত আচরণ করা হলে তা যে অন্যায়, সে বিষয়েও শিশুদের সচেতন করা হয়। তাই শুধু অপরিচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই নয়, সব পরিস্থিতিতেই নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে শিশুদের আরও জানানো হয়, তাদের সঙ্গে কোনও অনুচিত ঘটনা ঘটলে তার জন্য তারা কোনওভাবেই দায়ী নয়। এমন পরিস্থিতিতে চুপ না থেকে দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তিকে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। নিজেদের সমস্যার কথা খোলাখুলিভাবে জানাতে এবং কোনও ধরনের চাপ বা হুমকিতে ভয় না পেতে শিশুদের উৎসাহিত করা হয়।

পাশাপাশি বোঝানো হয়, সময়মতো ঘটনার কথা জানালে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনুচিত আচরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে শিশুদের আইনি অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়। তাদের জানানো হয়, সংবিধান ও বিভিন্ন আইন শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, সম্মান এবং শোষণ থেকে সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, হিংসা, দুর্ব্যবহার এবং যৌন শোষণের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে আইনি বিধান রয়েছে।

শিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কোনও সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাইতে পিছপা না হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের পাশাপাশি তাঁদের আশপাশের মানুষকেও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে দায়িত্বশীল করে তোলা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এক্ষেত্রে স্কুল, সমাজ এবং প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের শিশুদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, ভয় কিংবা অস্বস্তির মতো লক্ষণগুলির দিকে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে তারা কোনও দ্বিধা ছাড়াই নিজেদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারে।

নিরাপদ শৈশব অভিযানের আওতায় এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করতে সাহায্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা, অনুচিত আচরণের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এবং প্রয়োজনের সময় বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

Leave a comment