জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে CNG গাড়ির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু আপনার গাড়িতে যদি কোম্পানির তরফে CNG ভ্যারিয়েন্ট না থাকে, তাহলে কি আফটারমার্কেট CNG কিট লাগানো যায়? যায়, তবে তার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া দরকার। বিশেষ করে গাড়ির কোম্পানি ওয়ারেন্টি এবং ইনস্যুরেন্স পলিসির উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।
আফটারমার্কেট CNG কিটের সুবিধা কী?
যে সমস্ত পেট্রোল গাড়ির CNG ভার্সন বাজারে নেই, সেগুলিকে আফটারমার্কেট কিটের মাধ্যমে CNG-তে কনভার্ট করা সম্ভব। পুরনো বা সেকেন্ড-হ্যান্ড পেট্রোল গাড়ির মালিকরাও জ্বালানির খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতি বেছে নেন।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আফটারমার্কেট CNG কিট বসানোর খরচ সংশ্লিষ্ট গাড়ির ফ্যাক্টরি-ফিটেড CNG মডেলের জন্য দিতে হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের তুলনায় প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ কম হতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, সব গাড়ি CNG-তে রূপান্তরের জন্য উপযুক্ত নয়। সাধারণত পেট্রোল গাড়িতেই এই ধরনের কনভার্সন করা হয়।
সবচেয়ে বড় বিষয়—গাড়ির ওয়ারেন্টি
CNG কিট লাগানোর আগে প্রথমেই নিজের গাড়ির ওয়ারেন্টির শর্ত দেখে নেওয়া জরুরি। কিটটি সরকার অনুমোদিত হলেও এবং অনুমোদিত ইনস্টলারের মাধ্যমে লাগানো হলেও, কিছু ক্ষেত্রে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার পাওয়ারট্রেন ওয়ারেন্টি প্রভাবিত হতে পারে।আবার কোনও কোনও সংস্থা ইঞ্জিন বা পাওয়ারট্রেনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিয়ে বাকি যন্ত্রাংশের ওয়ারেন্টি চালু রাখতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার নীতির উপর নির্ভরশীল।কিছু CNG কিট ইনস্টলার আলাদা করে থার্ড-পার্টি ওয়ারেন্টি দেওয়ারও ব্যবস্থা রাখেন। তবে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। সাধারণত কিটের সঙ্গে ১-২ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হতে পারে।
বুট স্পেসও কমে যেতে পারে
আফটারমার্কেট CNG কিটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধা হল গাড়ির ডিক্কির জায়গা। ফ্যাক্টরি-ফিটেড CNG গাড়িতে নির্মাতারা অনেক সময় আন্ডারবডি বা ডুয়াল-ট্যাঙ্কের মতো ব্যবস্থা করেন। ফলে বুট স্পেস তুলনামূলকভাবে ব্যবহারযোগ্য থাকে।কিন্তু আফটারমার্কেট CNG কিটের ক্ষেত্রে সাধারণত বড় একটি সিঙ্গল ট্যাঙ্ক বসানো হয়। ফলে সেটি ডিক্কির বেশ খানিকটা জায়গা দখল করতে পারে। যাঁরা নিয়মিত বেশি লাগেজ বহন করেন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
CNG কিট লাগালে ইনস্যুরেন্সে কী পরিবর্তন হয়?
গাড়িতে বাইরে থেকে CNG কিট ইনস্টল করলে বিষয়টি ইনস্যুরেন্স সংস্থাকে জানানো জরুরি। কিটের দাম গাড়ির মোট মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পলিসিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হতে পারে।এর ফলে গাড়ির ইনস্যুর্ড ভ্যালু বা কভারেজের অঙ্ক বদলাতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামও বাড়তে পারে। তাই কিট লাগানোর পর শুধু গাড়ি চালানো শুরু করলেই হবে না, ইনস্যুরেন্স সংস্থার কাছেও তথ্য আপডেট করা প্রয়োজন।
RC-তেও CNG-এর তথ্য আপডেট করুন
আফটারমার্কেট CNG কিট লাগানোর পর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা RC-তে জ্বালানি সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স পলিসিতেও CNG কিটের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট খরচ নথিভুক্ত করা উচিত।এই আপডেটগুলি না করে গাড়ি চালালে ভবিষ্যতে কোনও দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য ধরনের ক্ষতির ক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্স ক্লেম নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পলিসিতে তথ্য গোপন থাকলে ক্লেম প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
পেট্রোলের খরচ কমাতে অনেকেই পুরনো গাড়িতে আফটারমার্কেট CNG কিট বসানোর কথা ভাবেন। তবে কিট লাগানোর আগে শুধু খরচ বা মাইলেজ নয়, গাড়ির ওয়ারেন্টি, ইনস্যুরেন্স, RC আপডেট এবং বুট স্পেসের বিষয়গুলিও মাথায় রাখা জরুরি। নিয়ম না মেনে কিট ইনস্টল করলে ভবিষ্যতে ইনস্যুরেন্স ক্লেম নিয়েও সমস্যা হতে পারে।













