পেটের সমস্যা হলেই অনেকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি কিংবা পাইলস ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছু উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন, বারবার কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এগুলি কোলন ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ অনেকটাই বাড়ে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য কি বিপদের ইঙ্গিত?
মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। তবে আগে মলত্যাগের সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হলে সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষ করে কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ৪–৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।একইভাবে, বারবার ডায়রিয়া হওয়া কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তনও কোলন ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে।
মলের সঙ্গে রক্ত দেখলে শুধু পাইলস ভাববেন না
মলত্যাগের সময় রক্ত দেখা গেলে অনেকেই ধরে নেন, এটি পাইলসের সমস্যা। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এমনটা নাও হতে পারে। কোলন বা মলাশয়ের সমস্যার কারণেও রক্তপাত হতে পারে।রক্তের রং উজ্জ্বল লাল, গাঢ় কিংবা মলের সঙ্গে মিশে থাকতে পারে। শুধু রক্তের রং দেখে পাইলস ও ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। তাই মলের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পেটে ব্যথা, গ্যাস ও অস্বস্তিও হতে পারে সতর্কবার্তা
দীর্ঘদিন ধরে তলপেটে ব্যথা, পেট মোচড়ানো, অস্বাভাবিক ফাঁপাভাব কিংবা পেটের অস্বস্তি চলতে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি বলে মনে হতে পারে।খাওয়ার পর ঢেকুর, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটি সাধারণত কোলন ক্যানসারের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। তবে এই সমস্যাগুলি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অন্য কোনও উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
অকারণে ওজন কমছে? নজর দিন শরীরের দিকে
খাবার বা জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন না করেও হঠাৎ ওজন কমতে থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে কিছু রোগীর এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।এ ছাড়া দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব এবং রক্তক্ষরণের কারণে রক্তাল্পতিও সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ক্লান্তি না কাটলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।
কেন বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যতালিকায় ফাইবারের ঘাটতি, অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া, শরীরচর্চার অভাব এবং অতিরিক্ত ওজন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাসও ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রতিদিনের খাবারে ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন বয়স থেকে স্ক্রিনিং নিয়ে ভাববেন?
প্রতিবেদনে উল্লেখিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ব্যক্তিগত ঝুঁকি, পারিবারিক ইতিহাস এবং শারীরিক উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক আরও আগে পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।পরিবারে কোলন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অথবা মলের সঙ্গে রক্ত, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বয়সের অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
কোলন ক্যানসার বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ হজমের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, মলের সঙ্গে রক্ত, পেটে ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি—এগুলি সম্ভাব্য সতর্কবার্তা। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।













