ভাতের সঙ্গে টক-মিষ্টি দই হোক কিংবা দুপুরের খাবারের শেষে এক বাটি ঠান্ডা দই—বাঙালির পাতে এর কদর যথেষ্ট। কিন্তু বাড়িতে দই বসাতে গেলেই অনেকের সমস্যা হয়। কখনও দই পাতলা থেকে যায়, আবার কখনও ঠিকমতো জমাট বাঁধে না। সাধারণত দই জমানোর জন্য অল্প পরিমাণ পুরনো দই বা স্টার্টার হিসেবে জমাট দই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেটাও যদি হাতে না থাকে? সেক্ষেত্রে রুপোর আংটি বা মুদ্রা দিয়ে দই জমানোর একটি প্রচলিত ঘরোয়া কৌশল চেষ্টা করেন অনেকে।
কীভাবে রুপোর আংটি দিয়ে দই জমাবেন?
প্রথমে প্রয়োজনমতো দুধ ভালো করে গরম করে নিন। দুধ ফুটে গেলে আঁচ বন্ধ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। দুধ যেন একেবারে গরম অবস্থায় না থাকে, আবার পুরোপুরি ঠান্ডাও না হয়ে যায়—হালকা উষ্ণ অবস্থাই প্রয়োজন।এরপর পরিষ্কার একটি মাটির পাত্র বা স্টিলের পাত্রে দুধ ঢেলে দিন।
এবার কাজে আসবে রুপোর আংটি
দুধ ঈষদুষ্ণ অবস্থায় এলে তাতে একটি পরিষ্কার রুপোর আংটি বা রুপোর মুদ্রা দেওয়ার কথা বলা হয় এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে। কেউ কেউ একটি বা দু’টি আংটি ব্যবহার করেন।তবে আংটি বা মুদ্রাটি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পাথর বসানো, পালিশ করা বা কোনও ধরনের প্রলেপযুক্ত গয়না ব্যবহার না করাই নিরাপদ। পরিষ্কার ও মরিচাবিহীন রুপোর জিনিসই ব্যবহার করা উচিত।
সারারাত রাখতে হবে উষ্ণ জায়গায়
এবার পাত্রটি ভালোভাবে ঢেকে দিন। এরপর সেটিকে ক্যাসেরোলের ভিতরে বা এমন কোনও উষ্ণ জায়গায় রাখুন যেখানে তাপমাত্রা খুব বেশি ওঠানামা করে না।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, সরাসরি ফ্যান বা কুলারের হাওয়া লাগে এমন জায়গায় রাখলে দই জমতে সময় বেশি লাগতে পারে। সাধারণত কয়েক ঘণ্টা, প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা রেখেদেওয়ার কথা বলা হয়।সকালে ঢাকনা খুলে দইয়ের অবস্থা দেখে নিন। জমে গেলে আংটি বা মুদ্রাটি বের করে অন্য পাত্রে দই সরিয়ে রাখতে পারেন।
স্টার্টার ছাড়া দই—তবে একটা কথা মনে রাখুন
রুপোর আংটি দিয়ে দই জমে যাওয়ার এই পদ্ধতি মূলত প্রচলিত ঘরোয়া কৌশল। দই আসলে জমাট বাঁধে দুধে থাকা উপযুক্ত ব্যাকটেরিয়ার ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে। তাই শুধু রুপোর আংটিই দই জমার জন্য দায়ী—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।দই জমাতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হল পরিচিত ও নিরাপদ স্টার্টার দই ব্যবহার করা এবং দুধকে উপযুক্ত উষ্ণতায় রাখা।
আংটি ব্যবহারের আগে সতর্কতা
রুপোর আংটি বা মুদ্রা দুধে দেওয়ার আগে সেটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। কোনও রাসায়নিক প্রলেপ, রং, পাথর বা ময়লা যেন না থাকে।দই জমে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধাতব বস্তু বা ধাতব পাত্রের সংস্পর্শে রেখে না দিয়ে আংটি বা মুদ্রাটি সরিয়ে ফেলাই ভালো। দই তৈরি হয়ে গেলে পরিষ্কার পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।
বাড়িতে দই জমাতে গিয়ে অনেক সময় তা পাতলা হয়ে যায় বা ঠিকমতো জমে না। আবার হাতে স্টার্টার দই না থাকলেও সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে রুপোর আংটি বা মুদ্রা ব্যবহার করে দই জমানোর একটি প্রচলিত ঘরোয়া কৌশলের কথা জানা যায়। কীভাবে করবেন, জেনে নিন সহজ পদ্ধতি।













