খেজুর না গুড়— ওজন কমাতে কোন ‘ন্যাচারাল সুইটনার’ বেশি কার্যকর? জেনে নিন সঠিক উত্তর

খেজুর না গুড়— ওজন কমাতে কোন ‘ন্যাচারাল সুইটনার’ বেশি কার্যকর? জেনে নিন সঠিক উত্তর

ওজন কমানোর পরিকল্পনা শুরু হলেই প্রথম তালিকায় বাদ পড়ে সাদা চিনি। তার বদলে অনেকে বেছে নেন খেজুর বা গুড়। দুটোই প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি, দুটোতেই কিছু পুষ্টিগুণ আছে— কিন্তু প্রশ্ন হল, ওজন ঝরাতে কোনটি সত্যিই সাহায্য করে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা নির্ভর করছে পরিমাণ ও শরীরের বিপাকক্রিয়ার উপর।

খেজুর: ফাইবারে ভরপুর, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে

খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, সঙ্গে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার হঠাৎ উত্থান কম হয়। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং অযথা স্ন্যাক খাওয়ার প্রবণতা কমে। ফলে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খেজুর ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে সতর্কতা জরুরি: খেজুরেও আছে উচ্চ ক্যালোরি

স্বাস্থ্যকর হলেও খেজুর ক্যালোরি সমৃদ্ধ। ২-৩টি খেজুর মিষ্টির ইচ্ছে মেটাতে যথেষ্ট, কিন্তু একসঙ্গে বেশি খেলে অজান্তেই ক্যালোরি বেড়ে যায়। তাই ওজন কমাতে চাইলে ‘পোরশন কন্ট্রোল’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুড়: কম প্রক্রিয়াজাত, তবুও প্রায় চিনির মতোই আচরণ

গুড় আখ বা খেজুরের রস থেকে তৈরি অপরিশোধিত মিষ্টি। এতে সামান্য লোহা ও খনিজ থাকলেও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় এটি প্রায় চিনির মতোই কাজ করে। দ্রুত শোষিত হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, যা ইনসুলিনের ওঠানামা বাড়াতে পারে এবং ক্ষুধা তাড়াতাড়ি ফিরে আসে।

ওজন কমাতে গুড় কতটা কার্যকর?

অনেকে ভাবেন, চায়ে চিনি না দিয়ে গুড় দিলেই ক্যালোরি কমে যাবে। বাস্তবে কিন্তু গুড়ের ক্যালোরি প্রায় সমান। তাই গুড় স্বাস্থ্যকর বিকল্প হলেও ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক ফুড’ নয়। নিয়মিত বেশি খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

বিশেষজ্ঞদের মত: লক্ষ্য যদি ওজন কমানো

পুষ্টিবিদদের মতে, যদি লক্ষ্য ওজন কমানো হয়, তবে সীমিত পরিমাণে খেজুর তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। এর ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গুড় মাঝেমধ্যে স্বাদ বাড়ানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু প্রতিদিনের মিষ্টির বিকল্প হিসেবে নয়।

চিনি ছেড়ে অনেকেই এখন ভরসা রাখছেন খেজুর বা গুড়ের উপর। কিন্তু ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এই দুই প্রাকৃতিক মিষ্টির মধ্যে কোনটি সত্যিই বেশি উপকারী? পুষ্টিগুণ, ক্যালোরি ও শরীরে প্রভাব— সবদিক বিচার করে রইল বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

Leave a comment