ত্বকে ছোট্ট একটি দাগ বা তিল—অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সেই দাগই কখনও প্রাণঘাতী স্কিন ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ চেনা অত্যন্ত জরুরি।

অতিবেগুনি রশ্মিই বড় শত্রু
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ ত্বকের ক্যানসারের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে থাকা ত্বকের কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি জেনেটিক কারণ, মেলানিনের অভাব, আর্সেনিকের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শ কিংবা এক্স-রে বিকিরণও ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা
সার্টিফায়েড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশা প্যাটেল মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে জানান, প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব। অনেকেই দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান, ফলে রোগ জটিল আকার নেয়।
ত্বকের ক্যানসারের তিন প্রধান ধরন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ত্বকের ক্যানসার মূলত তিন ধরনের—
বেসাল সেল কার্সিনোমা (BCC): সবচেয়ে সাধারণ। মুক্তোর মতো ছোট দাগ বা লাল আঁশের মতো দেখা যায়।
স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (SCC): রুক্ষ লাল বা গোলাপি দাগের মতো।
মেলানোমা: সবচেয়ে বিপজ্জনক। কালো বা অনিয়মিত আকৃতির দাগ হিসেবে দেখা দেয় এবং দ্রুত ছড়াতে পারে।
‘ABCDE’ নিয়মে চিনুন বিপদ
নতুন তিল বা পুরনো তিলের পরিবর্তন নজরে এলে ‘ABCDE’ নিয়ম অনুসরণ করুন—
A (Asymmetry): তিলের এক অংশ অন্য অংশের থেকে আলাদা।
B (Border): প্রান্ত অনিয়মিত বা খাঁজকাটা।
C (Color): একাধিক রঙ বা অস্বাভাবিক রঙের উপস্থিতি।
D (Diameter): তিলের আকার ৬ মিলিমিটারের বেশি।
E (Evolving): সময়ের সঙ্গে আকার, রঙ বা গঠনে পরিবর্তন।
কোন লক্ষণগুলো মারাত্মক?
ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন না-সারা ঘা, হঠাৎ রক্তপাত, নখের নিচে কালো দাগ, হাতের তালু বা পায়ের তলায় অস্বাভাবিক চিহ্ন—এসব উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়। নতুন দাগ যদি দ্রুত বাড়ে বা চুলকানি-ব্যথা সৃষ্টি করে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অতিরিক্ত রোদে বেরোনো, জেনেটিক কারণ বা রাসায়নিকের প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে ত্বকের ক্যানসার। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন তিল, রঙ বদলানো দাগ বা না-সারা ঘা—এই লক্ষণগুলিকে হালকাভাবে নিলে বিপদ বাড়তে পারে।













