ভেনেজুয়েলার পর এবার গ্রিনল্যান্ড! নেটোরই বন্ধু দেশের ভূখণ্ডে নজর ট্রাম্পের, ইউরোপ কি জোট বাঁধবে প্রতিরোধে?

ভেনেজুয়েলার পর এবার গ্রিনল্যান্ড! নেটোরই বন্ধু দেশের ভূখণ্ডে নজর ট্রাম্পের, ইউরোপ কি জোট বাঁধবে প্রতিরোধে?

উত্তর মেরুর কোলঘেঁষা গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—আমেরিকার নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এই মন্তব্যেই অস্বস্তিতে পড়েছে নেটোর সদস্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ ডেনমার্ক। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি আমেরিকার বিরুদ্ধেই একজোট হবে ইউরোপ?

কেন গ্রিনল্যান্ড ট্রাম্পের নজরে?

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে এই অঞ্চল কৌশলগত দিক থেকে অপরিহার্য। বরফ গলার ফলে খনিজ সম্পদ ও নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব আরও বেড়েছে—যা আমেরিকার আগ্রহ বাড়িয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে চাপ বাড়ল

হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ স্টেফেন মিলার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন,

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।”

এই মন্তব্যের পরই চাপ বাড়ে ডেনমার্কের উপর, কারণ তারা শুধু আমেরিকার বন্ধু নয়, নেটোরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

ডেনমার্কের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন সরাসরি নেটোর ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা,

“যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেটোর কোনও সদস্য দেশকে আক্রমণ করে, তাহলে নেটো জোট কার্যত ভেঙে পড়বে।”

এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়—পুরো সামরিক জোটের ঐক্য নিয়েই সংকট।

যৌথ অবস্থান

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের একাধিক শক্তিশালী দেশ একযোগে বিবৃতি দিয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, ইটালি, স্পেন ও পোল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নেবে শুধুমাত্র ওই দুই পক্ষই, তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

নেটো বনাম আমেরিকা?

ডেনমার্ক যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, তাই গ্রিনল্যান্ডে কোনও আগ্রাসন হলে তা ইউরোপ বনাম আমেরিকার সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে। নেটোর ভিতরেই বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডই শেষ নয়!

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড শুধু একটি উদাহরণ। ট্রাম্পের নজরে ইতিমধ্যেই ইরান, কলম্বিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে আরও আগ্রাসী অবস্থান নিতে পারে আমেরিকা—এই আশঙ্কা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন। ভেনেজুয়েলার পরে এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড, যা প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকার ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে এই মন্তব্য ঘিরে নেটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে তীব্র উদ্বেগ।

Leave a comment