শীত পড়তেই ত্বক টানটান, খসখসে আর চুলকানির সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ। বাতাসে আর্দ্রতার অভাব ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দামি ক্রিম মাখলেও অনেক সময় শুষ্কতা কমে না। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্রিমের উপর নির্ভর না করেও শীতে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
শীতে কেন ত্বক বেশি শুকিয়ে যায়?
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। তার সঙ্গে ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বকের স্বাভাবিক তেল ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। এর ফলেই ত্বকে খসখসে ভাব, চুলকানি ও ফাটা ফাটা অনুভূতি দেখা দেয়, যা উপেক্ষা করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
ক্রিম নয়, আর্দ্রতা ধরে রাখাই আসল চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে ত্বকের যত্নে শুধু ক্রিম ব্যবহার করলেই হবে না। ত্বকের ভিতরে আর্দ্রতা ধরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি। সঠিক তেল, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অভ্যাসই শীতের শুষ্কতা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর।
নারকেল তেল—শীতের ত্বকের প্রাকৃতিক বন্ধু
ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে নারকেল তেল অত্যন্ত উপকারী। স্নানের পর বা রাতে শোয়ার আগে শরীরে সামান্য নারকেল তেল লাগালে ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা বজায় থাকে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক নরম ও মসৃণ হয়।
শীতেও ব্যায়াম জরুরি, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ
বিউটিশিয়ান রূকশনা পারভিনের মতে, শীতের সময়ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। ব্যায়ামের ফলে ঘাম হলে ত্বকের লোমকূপ খুলে যায় এবং শরীরের প্রাকৃতিক তেল বেরিয়ে এসে ত্বককে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখে।
দুধ ও অলিভ অয়েল প্যাকের জাদু
রুক্ষ ত্বকের যত্নে দুধের ব্যবহার বহুদিন ধরেই পরিচিত। আধা কাপ কাঁচা দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ত্বকে লাগালে শুষ্কতা কমে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। সপ্তাহে দু’তিন দিন ব্যবহারেই মিলবে ভালো ফল।
ডিমের হলুদ অংশে মিলবে পুষ্টি
শীতকালে ডিমের হলুদ অংশ ত্বকের জন্য দারুণ কার্যকর। এতে থাকা প্রোটিন ও ফ্যাট ত্বকের শুষ্কতা কমায়। ফেসমাস্ক হিসেবে বা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক হয় নরম ও প্রাণবন্ত।
খাদ্যাভ্যাস বদলালেই বদলাবে ত্বক
ত্বকের যত্ন বাইরে থেকে নয়, ভিতর থেকেও জরুরি। শীতকালে ভিটামিন A, C ও E-সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া উচিত। গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কমলা জাতীয় ফল ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়।
শীতকাল এলেই অনেকের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। শুধু ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করেও অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের মরশুমে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস ও কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললেই ত্বক থাকবে আর্দ্র, নরম ও উজ্জ্বল।













