সাধারণ রাস্তা দিয়ে হাঁটা বা গাড়িতে যাতায়াত করা আমাদের কাছে পরিচিত অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই রাস্তার উপর যদি থাকে ২৪ ক্যারেট সোনার আস্তরণ, তা হলে কেমন হবে? পর্যটকদের এমনই এক অভিনব অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে দুবাই। শহরের সোনার ব্যবসার জন্য বিখ্যাত এলাকায় তৈরি হচ্ছে সোনায় মোড়া বিশেষ ওয়াকওয়ে। এই প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই পর্যটনপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
![]()
কোথায় তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা?
বিশ্বের প্রথম সোনার ওয়াকওয়ে তৈরি হতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে। শহরের দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ২৪ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে সাজানো এই ওয়াকওয়ে হবে বিশ্বের প্রথম এবং দীর্ঘতম সোনার হাঁটার রাস্তা।২০২৬ সালের শেষের আগেই এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটি সাধারণ পিচ বা কংক্রিটের রাস্তার মতো নয়; বরং সোনার পাত দিয়ে মোড়া একটি বিশেষ পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় সোনার বাজারের কাছেই এই ওয়াকওয়ে
দুবাইয়ের আল-রাস এলাকায় অবস্থিত ডেরা গোল্ড সুক বা সোনার বাজার। এই বাজারে রয়েছে প্রায় ৪০০টি সোনার দোকান। সেখানে ১৮ থেকে ২৪ ক্যারেট সোনার পাশাপাশি রুপো, প্ল্যাটিনাম, হিরে এবং বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রীও পাওয়া যায়।সোনার ব্যবসার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই এলাকাকেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তৈরি হচ্ছে সোনার পাত বসানো ওয়াকওয়ে। ফলে সোনার বাজার ঘুরে দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা সোনায় মোড়া পথের উপর দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাও পাবেন।
![]()
কবে থেকে হাঁটতে পারবেন পর্যটকরা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকেই এই ওয়াকওয়ে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর রশিদ আল হারমৌদি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পর্যটকদের সামনে এক অভিনব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।শুধু ওয়াকওয়ে তৈরি করাই নয়, এই আকর্ষণকে কেন্দ্র করে বড়সড় সোনা ও গয়নার প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি গয়না ও সোনার ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাড়ছে গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের ব্যবসা
দুবাইয়ের এই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে সোনা ও গয়নার ব্যবসার প্রসারও প্রকল্পটির অন্যতম প্রেক্ষাপট। রশিদ আল হারমৌদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ওই এলাকায় নতুন পাইকারি সোনার ব্যবসার অফিসের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে।একই সময়ে সোনা, গয়না, দামি পাথর এবং বিলাসবহুল ঘড়ির নতুন দোকানের সংখ্যাও বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এই বাণিজ্যিক বৃদ্ধির মধ্যেই সোনার ওয়াকওয়ে তৈরি হলে এলাকাটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
![]()
সোনা দিয়ে তৈরি রাস্তা—শুনতে অবাক লাগলেও দুবাইয়ে বাস্তব হতে চলেছে এমনই এক অভিনব পর্যটন আকর্ষণ। শহরের বিখ্যাত গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে ২৪ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ওয়াকওয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের আগেই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে এই রাস্তা। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটিই হবে বিশ্বের প্রথম এবং দীর্ঘতম সোনার ওয়াকওয়ে।








