ইয়ারপড–ইয়ারবাডের যুগে বাড়ছে ঝুঁকি! কানের সুরক্ষায় মানতেই হবে এই জরুরি স্বাস্থ্য টিপস

ইয়ারপড–ইয়ারবাডের যুগে বাড়ছে ঝুঁকি! কানের সুরক্ষায় মানতেই হবে এই জরুরি স্বাস্থ্য টিপস

বাস–ট্রেন–অফিস–জিম—দিনের বেশিরভাগ সময়ই কানে ইয়ারফোন। গান শোনা থেকে ভিডিও কল—সব ক্ষেত্রেই এই ছোট ডিভাইস এখন অপরিহার্য। কিন্তু আধুনিক এই অভ্যাস কি নিঃশব্দে ক্ষতি করছে আপনার কান? চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা বলছে, সচেতন না হলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার এড়ান: কানেরও দরকার বিশ্রাম

একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইয়ারফোন ব্যবহার করলে অন্তঃকর্ণে চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ব্যবহার শ্রবণ কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে বিরতি নিন। প্রতি ৪৫–৬০ মিনিট অন্তর অন্তত ১০–১৫ মিনিটের বিরতি কানের জন্য উপকারী।

৬০–৬০ নিয়ম মেনে চলুন

অনেকেই অজান্তে খুব জোরে গান শোনেন। উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘক্ষণ অডিও শোনা কানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের পরামর্শ—৬০ ডেসিবেলের বেশি ভলিউমে ৬০ মিনিটের বেশি না শুনলেই ভালো। এই ‘৬০–৬০ নিয়ম’ কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়।

পরিষ্কার রাখুন ইয়ারফোন ও ইয়ারবাড

কানের ময়লা, ঘাম ও ধুলো জমে ডিভাইসের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। নোংরা ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানে ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। নিয়মিত শুকনো কাপড় বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক ওয়াইপ দিয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

চার্জিংয়ে অসাবধানতা মারাত্মক হতে পারে

অনেকে সারারাত ইয়ারফোন চার্জে রেখে দেন। এতে ব্যাটারির আয়ু কমে এবং অতিরিক্ত তাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে। সস্তার বা অপ্রমাণিত চার্জার ব্যবহারও বিপজ্জনক। সবসময় ব্র্যান্ডেড ও সঠিক ভোল্টেজের চার্জার ব্যবহার করা উচিত।

ভেজা হাতে ব্যবহার নয়

ভেজা হাতে ইয়ারফোন ধরলে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ব্লুটুথ ইয়ারপড ব্যবহারের সময় জল বা ঘামের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা দরকার।

কানের অস্বস্তি উপেক্ষা করবেন না

ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় যদি কানে জ্বালা, ব্যথা, গরম লাগা বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রয়োজনে ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে সমস্যা জটিল হতে পারে।

স্মার্টফোনের সঙ্গে এখন নিত্যসঙ্গী ইয়ারফোন, ইয়ারপড ও ইয়ারবাড। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার, উচ্চ ভলিউম ও অসাবধানতা শ্রবণশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই কানের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

Leave a comment