বাঙালির পাতে মাছ থাকলে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। কিন্তু অসাবধানতায় মাছের কাঁটা গলায় আটকে গেলে মুহূর্তেই সেই আনন্দ বদলে যেতে পারে অস্বস্তি ও আতঙ্কে। তখন অনেকেই বাড়ির প্রচলিত টোটকা মেনে ভাতের বড় দলা, রুটি বা কলা গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনভাবে জোর করে কিছু গিলে ফেললে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন এবং কোন ভুলগুলি এড়াবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমেই শান্ত থাকুন, আতঙ্কিত হবেন না
গলায় কাঁটা আটকে গেলে প্রথম কাজ হল আতঙ্কিত না হওয়া। বারবার জোর করে ঢোক গেলার চেষ্টা বা তাড়াহুড়ো করে কোনও খাবার গিলে ফেলার বদলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। যদি কাঁটা খুব সামান্য বিঁধে থাকে এবং শ্বাস নিতে বা গিলতে কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখুন অস্বস্তি কমছে কি না।
ভাত, রুটি বা কলা জোর করে গিলে ফেলবেন না
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে বড় বড় গ্রাসে শুকনো ভাত, রুটি বা কলা গিলে কাঁটা নামানোর প্রচলিত টোটকা অনেকেরই জানা। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কাঁটা নীচে নামার বদলে আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে। ধারালো কাঁটা গলার টিস্যুতে আটকে থাকলে জোর করে খাবার গিললে সেখানে ক্ষত তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এমন কোনও টোটকা অবলম্বন না করাই নিরাপদ।
চিমটা বা ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে কাঁটা তুলবেন না
কাঁটা দেখা গেলেও নিজে থেকে চিমটা, টুথপিক বা অন্য কোনও ধারালো জিনিস দিয়ে সেটি বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভুলভাবে চেষ্টা করলে গলায় আঘাত লাগতে পারে এবং রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কাঁটা সহজে বের না হলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াই ভালো।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কাঁটা আটকে থাকার পর যদি তীব্র ব্যথা হয়, লালা গিলতে সমস্যা হয়, গিলতে গেলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়, রক্তপাত শুরু হয় বা গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসা বা শ্বাসনালিতে কিছু আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে এটি জরুরি অবস্থা—তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিন।
চিকিৎসক কীভাবে কাঁটা বের করতে পারেন?
প্রয়োজনে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক গলা পরীক্ষা করে কাঁটার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। কাঁটা কোথায় আটকে রয়েছে তার উপর নির্ভর করে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সেটি নিরাপদে বের করা হতে পারে। কখনও কাঁটা না থাকলেও তার আঁচড়ের কারণে গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
ভবিষ্যতে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
মাছ খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মাছ পরিবেশনের আগে ভালোভাবে কাঁটা বেছে নেওয়া জরুরি। ছোট কামড় নিয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেলে কাঁটা গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া বেশ অস্বস্তিকর এবং উদ্বেগের পরিস্থিতি। অনেকেই কাঁটা নামানোর জন্য বড় বড় গ্রাসে ভাত, রুটি বা কলা গিলে থাকেন। কিন্তু এতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গলা বা খাদ্যনালিতে আঘাত করতে পারে। তাই পরিস্থিতি বুঝে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।













