ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই খাবার একেবারে বাদ দিয়ে দেন, আবার কেউ অতিরিক্ত শরীরচর্চার উপর নির্ভর করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোর জন্য মূল চাবিকাঠি হল সঠিক খাবারের পরিমাণ, সুষম ডায়েট এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। ওজন কমানোর সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক। জেনে নিন রুটি, ভাত, ডিম ও প্রোটিন নিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ ৫টি প্রশ্নের উত্তর।
একটি রুটির ক্যালোরি ঝরাতে কতক্ষণ হাঁটবেন?
রুটির আকার ও উপকরণের উপর ক্যালোরির পরিমাণ কিছুটা নির্ভর করে। পুষ্টিবিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একটি সাধারণ রুটিতে প্রায় ১০০ কিলোক্যালোরি থাকতে পারে।প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটার গতিতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটলে একটি রুটির সমপরিমাণ ক্যালোরি খরচ করতে আনুমানিক ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। তবে ব্যক্তির ওজন, হাঁটার গতি এবং শারীরিক সক্ষমতার উপর এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
এক বাটি ভাতের ক্যালোরি খরচ করতে কত পা হাঁটতে হবে?
প্রায় ১৫০ গ্রাম রান্না করা ভাতে আনুমানিক ২০০ থেকে ২২০ কিলোক্যালোরি থাকতে পারে। পুষ্টিবিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ক্যালোরি খরচ করতে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার প্রয়োজন হতে পারে।তবে শুধু কোনও একটি খাবারের ক্যালোরি হিসাব করে হাঁটার পরিমাণ ঠিক করা সবসময় জরুরি নয়। সারাদিনের মোট ক্যালোরি গ্রহণ এবং খরচের ভারসাম্য ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একটি রুটি কতটা ভাতের সমান?
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে—একটি রুটির পরিবর্তে কতটা ভাত খাওয়া যেতে পারে?পুষ্টিবিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একটি রুটি আনুমানিক আধ কাপ বা ৭০ থেকে ৮০ গ্রাম রান্না করা ভাতের সমতুল্য হতে পারে। তবে রুটির আকার, ময়দা বা আটার ধরন এবং ভাতের পরিমাণ অনুযায়ী ক্যালোরির হিসাব বদলে যেতে পারে।
সপ্তাহে কতগুলি ডিম খাওয়া যায়?
ডিম প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পুষ্টিবিদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সপ্তাহে প্রায় ৭ থেকে ১৪টি ডিম খেতে পারেন। অর্থাৎ, অনেকের ক্ষেত্রে দিনে একটি থেকে দুটি ডিম খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।তবে প্রত্যেকের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিস্থিতি এক নয়। কারও বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা চিকিৎসকের নির্দিষ্ট খাদ্যনির্দেশ থাকলে ডিম খাওয়ার পরিমাণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। অ্যাথলেট বা যাঁদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি, তাঁদের খাদ্যতালিকাও আলাদা হতে পারে।
ডাল, ডিম নাকি চিকেন—কোনটিতে বেশি প্রোটিন?
ওজন কমানোর সময় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাল, ডিম এবং চিকেন—তিনটিই প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে।পুষ্টিবিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রোটিনের গুণমানের দিক থেকে ডিমকে অত্যন্ত ভালো উৎস হিসেবে ধরা হয়। তবে চিকেন এবং মিশ্র ডালও প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্টে যে পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়, তার সঙ্গে প্রায় ১৩ গ্রাম ডিম বা ৯-১০ গ্রাম ডালের প্রোটিনের তুলনা করা হয়েছে।তাই ওজন কমানোর ডায়েটে শুধুমাত্র একটি খাবারের উপর নির্ভর না করে ডিম, চিকেন এবং ডালের মতো বিভিন্ন প্রোটিন উৎস পরিমাণমতো রাখা যেতে পারে।
ওজন কমানোর আসল মন্ত্র কী?
ওজন কমানোর জন্য খাবার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া বা না খেয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবারে সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি।এর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির শরীর, বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার উপর ডায়েটের প্রয়োজনীয়তা আলাদা হতে পারে।
ওজন কমানোর সময় কী খাবেন, কতটা খাবেন এবং কতটা শরীরচর্চা করবেন—এই বিষয়গুলি নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। রুটি ও ভাতের ক্যালোরি থেকে শুরু করে ডিম খাওয়ার পরিমাণ কিংবা ডাল, ডিম ও চিকেনের মধ্যে কোনটিতে বেশি প্রোটিন—ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এমনই ৫টি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।













