ভারী ও তেল-মশলাযুক্ত আমিষ খাবার হজম করতে শরীরের কিছুটা বেশি সময় লাগে। এই সময় ভুল খাদ্যাভ্যাস পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজম কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই মাছ বা মাংস খাওয়ার পর কিছু খাবার অন্তত কিছু সময়ের জন্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
বরফ ঠান্ডা জল বা সফট ড্রিঙ্কস
মাছ, চিকেন বা মাটন খাওয়ার পরপরই বরফ ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা পানীয় পান করলে অনেকের হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অম্বলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভাজাভুজি
আমিষ খাবার নিজেই সাধারণত তেল-মশলা দিয়ে তৈরি হয়। তার উপর আবার ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে হজম আরও ধীর হতে পারে। এতে বদহজম, টক ঢেঁকুর ও অস্বস্তি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মিষ্টি ও ডেজার্ট
চিকেন বা মাছ খাওয়ার পরপরই রসগোল্লা, কেক, পেস্ট্রি কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি হজমের গতি কমে যেতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে।
চা বা কফি
খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চা বা কফি পান করলে কিছু পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে আয়রন শোষণে প্রভাব পড়তে পারে। তাই আমিষ খাবারের অন্তত ১-২ ঘণ্টা পরে চা বা কফি পান করাই ভালো।
টক বা সাইট্রাস ফল
কমলালেবু, লেবু, কিউই বা অন্যান্য সাইট্রাস ফল আমিষ খাবার খাওয়ার পরপরই না খাওয়াই ভালো। এতে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পেটে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
তাহলে আমিষ খাওয়ার পর কী খাবেন?
আমিষ খাবারের পরে সাধারণ জল পান করুন এবং কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে হালকা ফল বা দই (যদি আপনার শরীরে মানিয়ে যায়) খেতে পারেন। অতিরিক্ত খাওয়ার বদলে পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে হজমও সহজ হয়।
মাছ, চিকেন বা মাটনের মতো আমিষ খাবার খাওয়ার পর অনেকেই মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয় বা চা-কফি খেয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু খাবারের সংমিশ্রণ হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই আমিষ খাবারের পর কী খাওয়া উচিত আর কী এড়ানো উচিত, তা জানা জরুরি।













