অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, জিনগত কারণ কিংবা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শ—বিভিন্ন কারণেই হাড়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই রোগে হাড়ের ভেতরে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হাড়ের ক্যান্সার কী?
হাড়ের ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যেখানে ক্যান্সার কোষ সরাসরি হাড় থেকেই তৈরি হয়। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপির মতো চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হাড়ের ব্যথা
হাড়ের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকা। সাধারণ ব্যথানাশক খেলেও যদি ব্যথা না কমে বা রাতের দিকে বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
ফোলাভাব ও চলাফেরায় সমস্যা
আক্রান্ত হাড় বা অস্থিসন্ধির চারপাশে ফোলাভাব, লালচে ভাব কিংবা স্পর্শ করলে উষ্ণ অনুভূতি হতে পারে। পাশাপাশি হাঁটা, বসা বা হাত-পা নাড়াচাড়ায় অসুবিধাও দেখা দিতে পারে।
ঝিনঝিন অনুভূতি ও খোঁড়ানো
ক্যান্সার কোষ স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে আক্রান্ত স্থানে ঝিনঝিন, অবশ ভাব বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। পায়ের হাড় আক্রান্ত হলে অনেক সময় খোঁড়িয়ে হাঁটার সমস্যাও দেখা যায়।
সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া
হাড়ের ক্যান্সারের কারণে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অল্প আঘাত বা সামান্য দুর্ঘটনাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
অকারণে ক্লান্তি ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি ক্লান্তি না কাটে কিংবা কোনও কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তবে তা হাড়ের ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দীর্ঘদিন ধরে হাড়ের ব্যথা, ফোলাভাব, চলাফেরায় সমস্যা, অকারণে হাড় ভেঙে যাওয়া বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা বায়োপসির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
হাড়ের ক্যান্সার বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে। দীর্ঘদিনের হাড়ের ব্যথা, ফোলাভাব, চলাফেরায় অসুবিধাসহ কয়েকটি উপসর্গকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।













