বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার বৃদ্ধি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকি বাড়ায়। জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সময়মতো শনাক্তকরণ, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে এই পরিস্থিতি সহজেই সামলানো যায়। ২৪-২৮ সপ্তাহে পরীক্ষা করানো সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করা হয়েছে।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস: ১৪ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়েছে, যেখানে ভারত সহ অনেক দেশে গর্ভাবস্থায় ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অ্যাপোলো স্পেক্ট্রা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ড. মানিনি প্যাটেল এবং ড. ঋতিকা প্রসাদ জানিয়েছেন যে, যখন গর্ভাবস্থায় ইনসুলিনের প্রভাব কমে যায়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের সৃষ্টি করে। তাঁরা আরও বলেন যে, ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে করা পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মা ও শিশু উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি কী কী?
অ্যাপোলো স্পেক্ট্রা হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ড. মানিনি প্যাটেল জানান যে, গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে একটানা ক্লান্তি, ঘন ঘন তৃষ্ণা এবং হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে, ড. ঋতিকা প্রসাদ বলেন যে, হরমোনের স্বাস্থ্য এবং রক্তে শর্করা একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

কখন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো উচিত?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে রক্তে শর্করা পরীক্ষা অবশ্যই করানো উচিত। এর ফলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। যদি এই রোগ অবহেলিত থাকে, তাহলে শিশুর ওজন বাড়তে পারে, সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি বাড়ে এবং মাকেও জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
এই অভ্যাসগুলি সুরক্ষা দেয়
- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন
- যদি পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে, তাহলে আরও বেশি সতর্ক থাকুন
- মিষ্টি খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং খাদ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যোগা ও হালকা ব্যায়াম করুন
- মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, সময়মতো শনাক্তকরণ এবং সঠিক যত্ন দিয়ে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর ফলে মা ও শিশু উভয়ই সুরক্ষিত থাকে এবং গর্ভাবস্থাও সুস্থভাবে সম্পূর্ণ হয়।













