ঝাল মানেই ক্ষতি—এই ধারণা অনেকেরই। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক মাত্রায় কাঁচালঙ্কা খেলে মিলতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে কাঁচালঙ্কা খাদ্যতালিকায় রাখলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁচালঙ্কা
উত্তরপ্রদেশের জেহানাবাদের দীর্ঘদিনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ আমির আনোয়ার জানিয়েছেন, কাঁচালঙ্কা ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ। পাশাপাশি এতে থাকে আয়রন ও পটাসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এগুলি হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। স্যালাড বা খাবারের সঙ্গে কাঁচালঙ্কা যোগ করলে শরীর প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পায়।
ডায়াবেটিসে কীভাবে উপকার পেতে পারেন?
চিকিৎসকের মতে, কাঁচালঙ্কায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান বিপাকক্রিয়া উদ্দীপিত করতে পারে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিন একটি করে কাঁচালঙ্কা খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন—এটি ওষুধের বিকল্প নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ মাত্র।

ওজন ও বিপাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
কাঁচালঙ্কা বিপাকের গতি বাড়াতে সাহায্য করে বলে দাবি চিকিৎসকদের। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে কিডনির কার্যকারিতাও উন্নত করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য
মরশুমি সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের সময় কাঁচালঙ্কা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, দিনে ২-৩টি কাঁচালঙ্কা বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে ব্যক্তিভেদে হজমশক্তি ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

অতিরিক্ত খেলেই বিপদ
যে কোনও খাবারের মতো কাঁচালঙ্কাও অতিরিক্ত খেলে ক্ষতি হতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে পেটের প্রদাহ, গ্যাস, বদহজম এমনকি অর্শের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিমিত মাত্রাই নিরাপদ পথ।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কাঁচালঙ্কা শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরেও জোগায় ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত মাত্রায় কাঁচালঙ্কা খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি কোনওভাবেই ওষুধের বিকল্প নয়—খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত।













