পাকা পেয়ারা দেখলেই জিভে জল আসে! নুন-মরিচ দিয়ে পেয়ারা খাওয়ার মজাই আলাদা। শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এই ফল বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু তাই বলে যত খুশি পেয়ারা খাওয়া যায় না। বিশেষ কিছু শারীরিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পেয়ারা খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার আগে জেনে নিন কারা একটু বেশি সতর্ক থাকবেন।
কিডনির সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা
পেয়ারা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। সুস্থ মানুষের শরীরে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।তাই কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেয়ারা কতটা খাবেন, তা চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো।
যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে
পেয়ারায় যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার থাকে। পরিমিত ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপে সাহায্য করলেও হঠাৎ বেশি পরিমাণে পেয়ারা খেলে কিছু মানুষের গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।বিশেষ করে IBS-এর মতো হজমের সমস্যা থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পেয়ারা খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
যাঁদের ফলের অ্যালার্জি রয়েছে
কিছু মানুষের নির্দিষ্ট ফল খেলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। পেয়ারা খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে ফোলাভাব, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে আর না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।আগে থেকেই ফলের অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে নতুন কোনও খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা
পেয়ারায় ফাইবার রয়েছে এবং এটি অন্যান্য অনেক মিষ্টি ফলের তুলনায় রক্তে শর্করার ওপর তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পেয়ারা ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়। অতিরিক্ত ফল খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও বেড়ে যেতে পারে।তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিজের খাদ্যতালিকা ও ওষুধ অনুযায়ী উপযুক্ত পরিমাণে পেয়ারা খাওয়াই ভালো।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা
গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানের সময় নতুন কোনও খাবার কিংবা ভেষজ উপাদান বেশি পরিমাণে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে পেয়ারার পাতা দিয়ে তৈরি চা বা অন্যান্য ভেষজ প্রস্তুতি নিজে থেকে নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।তবে সাধারণ পরিমাণে ফল হিসেবে পেয়ারা খাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও খাদ্যতালিকার উপর নির্ভর করতে পারে।
সর্দি-কাশি থাকলে কি পেয়ারা বন্ধ?
পেয়ারা খেলেই সর্দি-কাশি হয়—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে কারও নির্দিষ্ট খাবার খেলে গলা বা পেটে অস্বস্তি হলে সাময়িকভাবে তা এড়িয়ে চলা যেতে পারে।
ভিটামিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ পেয়ারা স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে বা কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগলে এই ফলই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা, হজমের গোলমাল বা নির্দিষ্ট অ্যালার্জি থাকলে পেয়ারা খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।













