জীবনের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছেন হরিশ রানা। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির পর দিল্লির AIIMS-এ শুরু হয়েছে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া বা পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সব জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা, যার ফলে এখন তাঁর মৃত্যু কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
![]()
১৩ বছরের কোমা, শেষের পথে চিকিৎসা
হরিশ রানা গত ১৩ বছর ধরে কোমায় ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তাঁকে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। রক্তপরীক্ষা আগেই বন্ধ করা হয়েছিল, এবার বন্ধ করা হয়েছে শরীরে পুষ্টি দেওয়ার প্রক্রিয়াও। ফিডিং টিউব এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
AIIMS-এ বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের নজরদারি
নয়াদিল্লির AIIMS-এ একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড হরিশ রানার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। অ্যানেস্থেশিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে চলছে এই প্রক্রিয়া। বর্তমানে তাঁকে শুধুমাত্র কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, যার বেশিরভাগই মস্তিষ্কের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরিবারের পাশে কাউন্সেলিং, মানসিক প্রস্তুতি
এই কঠিন সময়ে হরিশ রানার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। তাঁর বাবা-মা ও ভাই AIIMS-এই রয়েছেন এবং প্রতিদিন চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মানসিকভাবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য তাঁদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
![]()
কীভাবে হয় প্যাসিভ ইউথানেশিয়া?
চিকিৎসকদের মতে, প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে রোগীর শরীর থেকে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়। কৃত্রিম পুষ্টি, অক্সিজেন এবং অন্যান্য সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে রোগীর যন্ত্রণা কমানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপশমমূলক অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যাতে রোগী কষ্ট না পান।
‘সর্বোত্তম স্বার্থ নীতি’ মেনে আদালতের অনুমতি
এই ধরনের ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থ নীতি’ অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, রোগী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হলে তাঁর পরিবারের মতামত এবং মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হরিশ রানা মামলায়ও সুপ্রিম কোর্ট একই নীতি অনুসরণ করে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে।
![]()
৩০ দিনের সময়সীমা, সিদ্ধান্তে সিলমোহর
আদালত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। চিকিৎসক ও পরিবার উভয়েই মনে করেছেন, হরিশ রানার সুস্থ হয়ে ওঠার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। সেই কারণেই এই কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে।
![]()
দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর হরিশ রানার ক্ষেত্রে ইচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে রক্তপরীক্ষা, পুষ্টি সরবরাহ এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির ভিত্তিতে AIIMS-এ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলছে পুরো প্রক্রিয়া।













