চুলে পাক ধরলেই কি ভরসা শুধু কালার বা কলপ? অনেকেই রাসায়নিক রং এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপাদানে চুলের যত্ন নিতে চান। তাঁদের জন্য পরিচিত একটি উপাদান হল জবা ফুল। বাড়ির বাগানে থাকা এই ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করে সহজেই তৈরি করা যায় হেয়ার টোনার। চুল ও মাথার ত্বকের পরিচর্যায় এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পাকা চুলের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে দেওয়া বা খুশকি সারানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে জবা ফুলকে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
![]()
চুলের যত্নে কেন ব্যবহার করা হয় জবা ফুল?
জবা ফুলের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Hibiscus rosa-sinensis। ঐতিহ্যগতভাবে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যায় জবা ফুল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।জবা ফুলে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে জবা ফুল দিয়ে তৈরি টোনার ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুল পড়া বন্ধ হবে কিংবা নতুন চুল দ্রুত গজাবে—এমন ফল সবার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত নয়। চুলের সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যার পদ্ধতিও আলাদা হতে পারে।
বাড়িতে কীভাবে তৈরি করবেন জবা ফুলের টোনার?
এই টোনার তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। শুকনো জবা ফুলের গুঁড়ো ও জল দিয়েই তৈরি করা যায় মিশ্রণটি।
উপকরণ:
শুকনো জবা ফুলের গুঁড়ো — প্রায় ২০ গ্রাম
জল — আধ গ্লাস
তৈরির পদ্ধতি:
প্রথমে জবা ফুল ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।
শুকনো ফুলগুলি গুঁড়ো করে নিন।
একটি পাত্রে আধ গ্লাস জলের সঙ্গে গুঁড়ো মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন।
জল কিছুটা কমে এলে আঁচ বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন।
ঠান্ডা হলে পরিষ্কার কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন।
পরিষ্কার পাত্রে মিশ্রণটি রাখুন। স্প্রে বোতলে রাখলেও ব্যবহার করা সহজ হবে।
তাজা জবা ফুল দিয়েও একই ধরনের মিশ্রণ তৈরি করা যেতে পারে। তবে ঘরে তৈরি এই টোনারে সংরক্ষক থাকে না। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে দ্রুত ব্যবহার করা ভালো। গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা ব্যবহার করবেন না।
![]()
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রথমবার ব্যবহার করার আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প মিশ্রণ লাগিয়ে দেখে নিন। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।কোনও সমস্যা না হলে মাথার ত্বক ও চুলে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে আলতোভাবে মালিশ করতে পারেন। জোরে ঘষবেন না। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।মিশ্রণটি লাগানোর পর কতক্ষণ রাখতে হবে বা সপ্তাহে কতবার ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নির্দেশিকা নেই। মাথার ত্বকে আগে থেকেই সমস্যা থাকলে কিংবা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
জবা ফুল কি সত্যিই পাকা চুল কালো করে?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মনে রাখা দরকার। বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, কিছু পুষ্টির ঘাটতি এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে চুল পেকে যেতে পারে। জবা ফুলের টোনার ব্যবহার করলে চুলের গোড়া থেকে পাকা চুলের রং কালো হয়ে যাবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।জবা ফুলের মিশ্রণকে রাসায়নিক হেয়ার কালারের বিকল্প হিসেবেও ধরে নেওয়া উচিত নয়। পাকা চুল ঢাকতে চাইলে উপযুক্ত হেয়ার কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনও রং ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশ মেনে অ্যালার্জি পরীক্ষা করা জরুরি।
খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা হলে কী করবেন?
শুধু জবা ফুলের টোনার ব্যবহার করে খুশকি পুরোপুরি দূর করা বা চুল পড়া বন্ধ করার নিশ্চয়তা নেই। খুশকির সমস্যা বেশি হলে উপযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু কাজে আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়লে, মাথার ত্বকে ঘা বা তীব্র চুলকানি হলে কিংবা হঠাৎ চুল পাতলা হয়ে গেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, কোমলভাবে চুল পরিষ্কার করা এবং অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
![]()
চুলের শুষ্কতা, খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা সামলাতে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ের উপর ভরসা করেন। জবা ফুল চুলের যত্নে ব্যবহৃত পরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। শুকনো জবা ফুলের গুঁড়ো ও জল দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় হেয়ার টোনার। তবে এই মিশ্রণ পাকা চুল কালো করে দেবে, খুশকি পুরোপুরি দূর করবে কিংবা চুলের বৃদ্ধি নিশ্চিতভাবে বাড়াবে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।








