শীতের মরশুম যেন তার পুরো শক্তি নিয়েই হাজির হয়েছে বাংলায়। সকাল হলেই শহর থেকে গ্রাম—চারদিক ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশায়। রাস্তাঘাট, মাঠঘাট, নদীর পাড়—সবই যেন ধোঁয়ায় ঢাকা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শীত ও কুয়াশার দাপট আপাতত চলবেই।

ঘন কুয়াশায় ভোরের বাংলা
ভোরবেলা ঘর থেকে বেরোনো কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, বর্ধমান থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় সকাল থেকেই দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
যান চলাচলে প্রভাব, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
ঘন কুয়াশার কারণে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে যান চলাচল ধীর গতিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে বাস, ট্রাক ও ছোট গাড়ির চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর ও প্রশাসনের তরফে বারবার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

তাপমাত্রা কতটা নামছে?
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি কম থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে এই পার্থক্য আরও বেশি—কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের থেকে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি নীচে দিনের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে।
সবচেয়ে বেশি শীত কোন জেলায়?
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যের মোট ৯টি জেলায় শীতের কামড় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।
উত্তরবঙ্গ: মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর
দক্ষিণবঙ্গ: বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া
মুর্শিদাবাদের কান্দি, বহরমপুর, জঙ্গিপুর থেকে ডোমকল—সব জায়গাতেই শীতের আমেজ ও কুয়াশার দাপট স্পষ্ট।

আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস
আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিন ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নীচে নেমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে IMD।

নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে একের পর এক জেলা। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা খুব একটা বাড়বে না, বরং শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।











