মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ভারতীয় শেয়ারবাজার সামান্য পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে। বিএসই সেনসেক্স ৮.০৮ পয়েন্ট বা ০.০১ শতাংশ কমে ৭৩,৫৯৮.৬৭ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৩.৪৫ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ কমে ২২,৭৪৯.৭৫ পয়েন্টে থেমেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজারকে প্রভাবিত করেছে। তবে রিয়েলটি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও মিডিয়া খাতের শেয়ারে কেনাকাটা দেখা গিয়েছে।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে সেনসেক্স ও নিফটি পতনের সঙ্গে লেনদেন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বাজারের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যায় এবং কয়েকটি বড় সংস্থা ও নির্বাচিত খাতের শেয়ারে কেনাকাটার জেরে সূচকগুলি ঘুরে দাঁড়ায়। তবে দিনের উচ্চতর স্তরে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় সেই উত্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই প্রধান সূচকই সামান্য পতনে লেনদেন শেষ করে।
বড় সংস্থার শেয়ারে দুর্বলতা থাকলেও মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ বিভাগে কেনাকাটা অব্যাহত ছিল। লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৪৫০ পয়েন্ট নেমে আসে। সোমবারের বাজার বৃদ্ধির পর মঙ্গলবারের এই সামান্য পতন লেনদেনের গতিপ্রকৃতিতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং মার্কিন সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
বাজারে সামগ্রিক দুর্বলতা সত্ত্বেও নিফটির একাধিক শেয়ারে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, ভারতী এয়ারটেল, ট্রেন্ট, বিএসই লিমিটেড এবং পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন দিনের উল্লেখযোগ্য অগ্রসর হওয়া শেয়ারগুলির মধ্যে ছিল।
![]()
টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টসের শেয়ারে সংস্থার ত্রৈমাসিক ফলাফলের প্রভাব দেখা গিয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটি মুনাফা ও রাজস্ব বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রাসিম ইন্ডাস্ট্রিজ, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, কোল ইন্ডিয়া, টিসিএস এবং এশিয়ান পেন্টসের শেয়ারে পতন হয়েছে। এই বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ প্রধান সূচকগুলির ঊর্ধ্বমুখী গতি সীমিত করেছে। বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দুর্বলতা নিফটির গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন খাতের সূচকের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডিয়া সূচক প্রায় ৩.৬ শতাংশ বেড়েছে। রিয়েলটি ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের সূচকেও প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। অটোমোবাইল খাতের সূচক প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করেছে।
এর বিপরীতে, তথ্যপ্রযুক্তি, তেল ও গ্যাস এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কিং খাতের সূচকে পতন হয়েছে। এই তিনটি সূচকই প্রায় ০.৫ শতাংশ করে কমেছে। বড় সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা সীমিত থাকলেও ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল।
প্রধান সূচকগুলি সামান্য পতনে বন্ধ হলেও বৃহত্তর বাজারে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ সূচক প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, স্মলক্যাপ সূচকে প্রায় ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবারের কেনাকাটা বড় সংস্থার শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। নির্বাচিত ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারেও বিনিয়োগকারীরা কেনাকাটা করেছেন। তবে এক দিনের বৃদ্ধি পরবর্তী সময়েও বাজারে একই প্রবণতা বজায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষত স্মলক্যাপ শেয়ারের দামের ওঠানামা বড় সংস্থার শেয়ারের তুলনায় বেশি হতে পারে।












