২০০ কোটি টাকার তোলা বাজি ও অর্থ পাচার মামলায় ফের চাপে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী Jacqueline Fernandez। প্রতারক Sukesh Chandrasekhar-এর সঙ্গে যোগসূত্র নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্কে অভিনেত্রী। এবার দিল্লির আদালতে তাঁর সরকারি সাক্ষী বা ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার আবেদনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, জ্যাকলিনের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তাই তাঁকে সহজে ছাড় দেওয়া যায় না।
রাজসাক্ষী হতে চেয়ে নতুন পদক্ষেপ অভিনেত্রীর
গত ১৭ এপ্রিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে জ্যাকলিনের তরফে একটি আবেদন জমা পড়ে। সেখানে জানানো হয়, অভিনেত্রী মামলায় সরকারি সাক্ষী হতে ইচ্ছুক। আদালত সেই আবেদনের ভিত্তিতে ইডির মতামত জানতে চায়। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা আদালতে স্পষ্ট জানায়, এই আবেদন তারা সমর্থন করছে না।ইডির দাবি, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে জ্যাকলিনের আচরণ এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁকে রাজসাক্ষী করার ক্ষেত্রে আপত্তি রয়েছে তদন্তকারীদের।
সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডে কেন জড়াল নাম?
এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতারক Sukesh Chandrasekhar। অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবারকে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই অবৈধ টাকার একাংশ দিয়ে বলিউডের একাধিক তারকাকে দামি উপহার দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।ইডির দাবি, জ্যাকলিন কোটি টাকার গয়না, বিলাসবহুল গাড়ি, ডিজাইনার ব্যাগ ও বিদেশি ব্র্যান্ডের উপহার পেয়েছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই উপহারগুলির উৎস নিয়েঅভিনেত্রীর সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল।
‘আমি জানতাম না’— জ্যাকলিনের দাবি
অভিনেত্রীর আইনজীবীরা বারবার আদালতে দাবি করেছেন, জ্যাকলিন কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরেই উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তবে ইডির বক্তব্য, এত বিপুল মূল্যের উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিনেত্রীর দায় এড়ানো যায় না।এই মামলায় একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে অভিনেত্রীকে। দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘটনা বলিউডে অন্যতম চর্চিত বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টেও মেলেনি স্বস্তি
কিছুদিন আগেই Supreme Court of India অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করতে অস্বীকার করে। ফলে আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এরপরই রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন জ্যাকলিন। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, মামলার চাপ কমাতেই এই কৌশল নিয়েছেন অভিনেত্রী।
তদন্তে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে
তদন্তকারী মহলের মতে, যদি ভবিষ্যতে জ্যাকলিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন, তাহলে এই অর্থ পাচার চক্রে আরও প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। সুকেশের আর্থিক নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ এবং টাকার লেনদেনের রুট নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
২০০ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় নতুন মোড়। বলিউড অভিনেত্রী Jacqueline Fernandez-এর ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার আবেদনকে আদালতে বিরোধিতা করেছে Enforcement Directorate। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ফলে সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডে জ্যাকলিনের আইনি সঙ্কট আরও গভীর হল।










