রবিবার সকালে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি এলাকায় একটি সরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারলে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু এবং বহু যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্র পরিবহনের বাসটি ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই প্রবল ছিল যে বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়াই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃত ও আহতদের সংখ্যা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে অন্তত দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
দুর্ঘটনার পর রাজ্যের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এই ঘোষণা করেন পরিবহন দফতরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।
হাসপাতালে পৌঁছলেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। আহতদের পরিবারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাসের গতি, চালকের ভূমিকা এবং রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্র পরিবহনের একটি বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী। দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।











