মা সারদার তিথি পূজা: জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশনে বৃহস্পতিবার গভীর ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার আবহে পালিত হচ্ছে মা সারদা দেবীর ১৭৩তম শুভ জন্মতিথি। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মঙ্গলারতি দিয়ে শুরু হয়েছে দিনভর অনুষ্ঠানমালা। কোথায়, কখন, কোন অনুষ্ঠান—সব জানতে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় জমেছে আশ্রমে। বেদান্ত পাঠ, বিশেষ পূজা, শ্রীমায় পাঠ, হোম, লীলা গীতি, পুষ্পাঞ্জলি ও সন্ধ্যারতি—একের পর এক আয়োজনকে ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। নিঃস্বার্থতা ও মানবসেবার বাণী স্মরণে আজ আশ্রম জুড়ে ভক্তির স্রোত।

ভোর থেকেই শুরু আধ্যাত্মিক আবহ
বৃহস্পতিবার ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে শুরু হয়েছে মা সারদার জন্মতিথির পূজা-পার্বণ। আশ্রমজুড়ে ধূপধুনো, মন্ত্রোচ্চারণ ও শান্তিময় পরিবেশ ভক্তদের মনকে আরও পবিত্র করে তুলেছে। ভোর থেকেই শতাধিক ভক্ত আশ্রমে উপস্থিত হয়ে নিজের চোখে এই শুভক্ষণ প্রত্যক্ষ করেছেন।এরপর ভোর ৫টায় বেদান্ত পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আধ্যাত্মিক শিক্ষার অধ্যায়। বিশেষ পূজা সকাল ৭টায় শুরু হওয়ার আগেই আশ্রমের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই।
দিনের বিশেষ পূজা ও শ্রীমায় পাঠে ভক্তদের ভিড়
সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ‘শ্রীমায়’ পাঠ—যা সারদা মায়ের বাণী, আদর্শ ও জীবনের মূল্যবোধকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এরপর ৯টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় হোম। হোমের সময় আশ্রমজুড়ে এক অতুলনীয় পবিত্রতার আবহ তৈরি হয়, যা বহু ভক্তকে আবেগতাড়িত করে।
১০টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় লীলা গীতি—সারদা মায়ের লীলার কাহিনি নিয়ে সংগীত পরিবেশন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন ভক্তরা।

পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ ও সন্ধ্যারতি—দিনভর আধ্যাত্মিক স্রোত
পুষ্পাঞ্জলির পরে দুপুর ১টায় প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। আশ্রমে আগত সকল ভক্তকেই ভালবাসা ও ভক্তির সঙ্গে প্রসাদ দেওয়া হয়।সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যারতি। আশ্রমের আলো-আঁধারিতে ঘণ্টা-ঘণ্টি ও ধূপের গন্ধে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মধুর।
রাতের ভক্তিগীতি ও আলোচনা—শেষ পর্বে ভক্তদের ভিড়
সন্ধ্যা ৭টায় সারদা মায়ের জীবন ও বাণী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তুলে ধরেন তাঁর মানবসেবা, করুণা, আদর্শ ও জীবনদর্শনের মূল শিক্ষাগুলি।রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় ভক্তিগীতি। মহারাজদের সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশিত ভক্তিগীতিতে ভক্তদের আবেগ চূড়ায় পৌঁছায়। আশ্রম প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে আধ্যাত্মিক ঐক্যের আলোয়।
ভক্ত সমাগমে জমজমাট আশ্রম
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের বিপুল সমাগম দেখা গিয়েছে। বহু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন সারদা মায়ের জন্মতিথির পূজায় অংশ নিতে। সারদা মায়ের আদর্শ, ভালবাসা, নিঃস্বার্থতা ও মানবসেবার বাণী স্মরণ করে ভক্তরা দিনভর প্রার্থনা ও পূজায় যোগ দেন।আজকের দিনটি যেন ভক্তদের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক উৎসব।
শ্রী শ্রী মা সারদা দেবীর ১৭৩তম জন্মতিথি উপলক্ষে জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল থেকে শুরু হয়েছে দিনভর নানা পূজা-পার্বণ ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। মঙ্গলারতি, বিশেষ পূজা, বেদান্ত পাঠ, হোম, লীলা গীতি, পুষ্পাঞ্জলি থেকে রাতের ভক্তিগীতি—সব মিলিয়ে ভক্তদের ঢল নেমেছে আশ্রম প্রাঙ্গণে।













