জলপাইগুড়ি: সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রাঙা গোটা শহর। সংস্কৃতি, বিনোদন আর স্বাদের অনন্য মেলবন্ধনে জমজমাট হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় বর্ষের জলপাইগুড়ি উৎসব। শহরবাসীর পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে জুবিলি পার্ক থেকে জেলাশাসকের দফতর চত্বর।

আলো-রঙে নতুন সাজে শহর
উৎসবকে কেন্দ্র করে জুবিলি পার্ক এলাকা থেকে শুরু করে জেলাশাসকের দফতর চত্বর পর্যন্ত চোখধাঁধানো আলো, রঙিন ব্যানার ও নানান সাজসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা শহর। সকাল থেকেই মানুষের ভিড় প্রমাণ করছে, জলপাইগুড়ি উৎসব ইতিমধ্যেই শহরের অন্যতম বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
শিশুদের জন্য আলাদা আকর্ষণ
খুদেদের আনন্দের কথা মাথায় রেখে উৎসবে রাখা হয়েছে আধুনিক বিনোদনের নানা আয়োজন। মিকি মাউস-সহ জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রদের উপস্থিতিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি সৃজনশীল খেলাধুলা ও মনগড়া খেলার সামগ্রী ছোটদের মন জয় করেছে।

সাংস্কৃতিক মঞ্চে ভারতের বৈচিত্র্য
উৎসবের সাংস্কৃতিক মঞ্চে ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যের সঙ্গে ভারতের নানা রাজ্যের সংস্কৃতি। আসামের বিহু নৃত্য থেকে শুরু করে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। নৃত্য ও সঙ্গীতানুষ্ঠানে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেছেন ভিন্ন স্বাদের শিল্পচর্চা।
স্বাদের উৎসবে খাবারের বাহার
সংস্কৃতির পাশাপাশি খাবারের দিক থেকেও এই উৎসব নজর কেড়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা-স্টল, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং নানান মুখরোচক খাদ্যসামগ্রী দর্শনার্থীদের ভিড় টেনেছে। স্বাদের টানে বহু মানুষ বারবার ঘুরে আসছেন খাবারের স্টলগুলোতে।

মনের কথা দেওয়াল’ ও বিশেষ আয়োজন
উৎসবে রয়েছে দর্শনার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘মনের কথা দেওয়াল’, পাশাপাশি বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন ও আকর্ষণ। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। জেলাশাসকের হাত দিয়ে ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

দ্বিতীয় বর্ষে পা রেখে আরও জমজমাট হয়ে উঠেছে জলপাইগুড়ি উৎসব। হ্যাপি স্ট্রিট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের বিনোদন থেকে শুরু করে নানা স্বাদের খাবার—সব মিলিয়ে শহরবাসী ও পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই উৎসব।













