দিঘা: আনন্দ, ভ্রমণ আর সমুদ্রের টানে হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন ভিড় জমান দিঘায়। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে বিপদের ছায়া। উত্তাল ঢেউ, হঠাৎ বদলে যাওয়া স্রোত—এক মুহূর্তের অসতর্কতাই কেড়ে নিতে পারে প্রাণ। ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ান দিঘার নুলিয়ারা—সমুদ্রের অতন্দ্র প্রহরী।
চোখে ঘুম নেই, নজর শুধু ঢেউয়ের দিকে
সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মানুষ। কারও হাতে মাইক, কারও চোখ সারাক্ষণ জলের গতিবিধির উপর। কখনও শান্ত, কখনও মুহূর্তে ভয়ংকর হয়ে ওঠে সমুদ্র। পর্যটকরা আনন্দে মেতে থাকলেও, নুলিয়াদের চোখে নেই একফোঁটা ঘুম। কারণ জানেন—এক মুহূর্ত দেরি মানেই বড় বিপদ।
ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দায়িত্ব পালন
রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা কুয়াশা—কোনও কিছুই নুলিয়াদের দায়িত্ব থেকে সরাতে পারে না। সমুদ্র খারাপ হলে মাইক হাতে সতর্কবার্তা দেন, গভীরে নামতে বারণ করেন। তবুও কেউ বিপদে পড়লে, নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন উত্তাল জলে।
স্পিডবোটে কিংবা সাঁতরে উদ্ধার অভিযান
পর্যটক তলিয়ে গেলে এক মুহূর্ত দেরি করেন না তাঁরা। কখনও সাঁতরে, কখনও স্পিডবোটে চেপে ছুটে যান বিপদের মুখে। ভয়ংকর ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে টেনে আনেন বিপন্ন মানুষকে। সেই সময় নিজের পরিবার, নিজের জীবনের কথা গৌণ হয়ে যায়—অন্যের প্রাণটাই হয়ে ওঠে আসল।
কারা এই নুলিয়ারা?
এই নুলিয়ারা শুধু লাইফগার্ড নন—ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও সিভিল ডিফেন্স কর্মী হিসেবেও পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে অগণিত পর্যটকের জীবন বাঁচিয়েছেন তাঁরা।
২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক পর্যটক সমুদ্রে নামলে তাঁকে উদ্ধার করেন এক নুলিয়া। আবার ২০২১ সালের ৪ মার্চ, পর্যটক বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এক সাহসী নুলিয়া।
সাম্প্রতিক ঘটনাও কম নয়
২০২৫ সালের ২৪ মে, আচমকাই ধেয়ে আসে বিশাল ঢেউ। মুহূর্তের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান এক পর্যটক। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, দেরি না করে ঝাঁপ দেন এক নুলিয়া। প্রবল স্রোতের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয় বিপন্ন পর্যটককে।
দিঘার উত্তাল সমুদ্রের বুকে প্রতিদিন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন একদল মানুষ—নুলিয়ারা। ঝড়-বৃষ্টি, ভয়ংকর ঢেউ উপেক্ষা করে নিজের জীবন বিপন্ন করে তাঁরা রক্ষা করেন পর্যটকদের প্রাণ। বহু অজানা বীরত্বগাথার নেপথ্যে থাকা এই নুলিয়ারাই দিঘার আসল রিয়েল হিরো।













