ঝাড়খণ্ডের অর্থমন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ কিশোর অতিরিক্ত সরকারি গাড়ি না পেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলেন

ঝারকারি গাড়ি সরবরাহ না হওয়ার অভিযোগে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই সরকারি কর্মসূচি ও এলাকাভিত্তিক সফরে অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এখনও রাজ্য সরকার বা পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

ঝাড়খণ্ডের অর্থমন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ কিশোর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত একটি সরকারি গাড়ি সরবরাহ না হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সব পুলিশকর্মী এবং কনভয়ের সরকারি গাড়িগুলি ফেরত দিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই সরকারি কর্মসূচি ও এলাকাভিত্তিক সফরে অংশ নিচ্ছেন।

এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকর্মীদের যাতায়াতের জন্য একটি অতিরিক্ত সরকারি গাড়ির অনুরোধ করা হলেও তা পূরণ করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার পর শুক্রবার সকালে অর্থমন্ত্রী প্রথমে খেলগাঁও স্টেডিয়ামে একটি জনসাধারণের কর্মসূচিতে যোগ দেন। পরে তিনি প্রজেক্ট ভবন সচিবালয়ও পরিদর্শন করেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি কোনও নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই উপস্থিত ছিলেন। সাধারণত রাজ্যের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী ও সরকারি গাড়ির কনভয় থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি।

কয়েক সপ্তাহ আগে অর্থমন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ কিশোর রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিজিপি)-কে একটি চিঠি লিখে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বাস্তব সমস্যার কথা জানান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকর্মীদের জন্য উপলব্ধ গাড়ির সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। এর ফলে তাঁদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের যাতায়াত নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে একটি অতিরিক্ত সরকারি গাড়ি দেওয়ার অনুরোধ জানান।

চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তাঁর নিরাপত্তার জন্য মোট ১৬ জন পুলিশকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর মতে, মাত্র তিনটি সরকারি গাড়িতে সকল নিরাপত্তারক্ষীকে বহন করা বাস্তবসম্মত নয় এবং নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় পুলিশকর্মীদের সীমিত জায়গায় যাতায়াত করতে হয়, যা নিরাপত্তার মানদণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণে তিনি চারটি গাড়ির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছিলেন।

ঝাড়খণ্ডের অর্থমন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ কিশোর অতিরিক্ত সরকারি গাড়ি না পেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলেন

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি বিষয়টি নিয়ে আগেও চিঠিপত্র পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাননি। পরে একটি সরকারি গাড়ি ফেরত দেওয়ার প্রশাসনিক নোটিসের তথ্য জানার পর তিনি সেটিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেন। অতিরিক্ত গাড়ির অনুরোধে কোনও পদক্ষেপ না হওয়া এবং গাড়ি ফেরতের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি গাড়ি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

সাংবিধানিক পদে থাকা মন্ত্রীদের তাঁদের পদ ও দায়িত্ব অনুযায়ী নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, সরকারি কর্মসূচি, জনসমাবেশ এবং সরকারি সফরের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাও।

এই ঘটনায় সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে আরও কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কোনও মন্ত্রী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার কথা জানালে তা সময়মতো বিবেচনা করা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট যোগাযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য বিরোধ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর এখন রাজ্য সরকার, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন সমাধান বের হতে পারে। পাশাপাশি বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে পারে।

 

Leave a comment