আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনিতে শীত পড়তেই টকপ্রেমীদের ভিড় জমছে কামরাঙার দোকানে। রাস্তার ধারের ছোট্ট ঠেলাগাড়িতেই সমীর দাস চার বছর ধরে বিক্রি করেন তাঁর জনপ্রিয় ‘কামরাঙা মাখা’। নুন–চিনি–মশলার টক–ঝাল মিশে একেবারে শৈশবের স্বাদ! আর এই ফলের রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও।
টক স্বাদের জাদুতে মজেছে কালচিনি
কালচিনি হাসপাতালের সামনে ছোট্ট দোকানে প্রতিদিনই লেগে থাকে কামরাঙা মাখার চাহিদা। দুপুর হলেই লাইন পড়ে যায় সমীর দাসের সামনে। টক খেতে ভালোবাসেন যারা—শীত–গ্রীষ্ম–বর্ষা, কোনও ঋতুই তাঁদের আটকাতে পারে না। তাই সমীরের হাতের মাখা কামরাঙা কালচিনি বাসীর কাছে বছরভর জনপ্রিয়।
পিকনিক মরশুমে চাহিদা ছাড়িয়ে যায় বিক্রি
ডিসেম্বর পড়তেই আলিপুরদুয়ার–ডুয়ার্স জুড়ে শুরু হয়েছে পিকনিক মৌসুম। সেই সঙ্গে বেড়েছে কামরাঙা মাখার চাহিদাও। সমীর জানান, কেউ কেউ লবণ–মশলা কিছু না দিয়েই কাঁচা কামরাঙা খেয়ে নেন। আবার অনেকে চান সিক্রেট মশলার স্বাদ—তাদের জন্য আলাদা রেসিপি।
দাম কম, স্বাদ বেশি—সব পকেটের উপযোগী
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ১০, ২০ ও ৩০ টাকার প্যাকেটে বিক্রি হয় কামরাঙা মাখা। সমীর বলেন—
কামরাঙার স্বাস্থ্যগুণ—শরীর রাখে সুস্থ
চিকিৎসক শ্রীকান্ত মণ্ডলের মতে কামরাঙা একটি ‘সুপারফ্রুট’। এতে থাকে—
ভিটামিন সি
অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট
ফাইবার
পটাশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম
স্বাস্থ্য উপকারিতা:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ওজন কমাতে সাহায্য করে
রক্ত পরিশোধন করে
কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
বাতের ব্যথা উপশমে উপকারী
তবে সতর্কতা জরুরি—কিডনি রোগীরা খাবেন না
চিকিৎসকের স্পষ্ট মত—
“কিডনি রোগী বা যাদের কিডনি নিয়ে সমস্যা আছে তারা কখনও কামরাঙা খাবেন না।”কারণ এই ফলে থাকা নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান কিডনির উপর চাপ বাড়াতে পারে।
কালচিনি হাসপাতালের সামনে সমীর দাসের কামরাঙা মাখা শীতের দুপুরে বিশেষ জনপ্রিয়। নুন–চিনি–মশলার টক–ঝাল স্বাদে ভরপুর এই ফল শুধু জিভেই নয়, শরীরেও আনে উপকার। চিকিৎসকদের মতে এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ওজন কমানো থেকে রোগ প্রতিরোধ—সবেতেই কার্যকর। তবে কিডনির রোগীরা দূরে থাকাই ভালো।













