জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি। অথচ গোটা দেশে মদের দোকান মাত্র একটি! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই বাস্তব সৌদি আরবের। ইসলামি শরিয়ত আইনের কারণে যেখানে বছরের পর বছর মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেখানে সম্প্রতি সীমিত পরিসরে খুলেছে একমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রিত মদের দোকান—তাও কড়া শর্তে।
কেন সৌদি আরবে মদ নিষিদ্ধ?
দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে সাধারণ মানুষের জন্য মদ বিক্রি ও সেবন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ধর্মীয় আইন অনুযায়ী মদ হারাম হওয়ায় দেশজুড়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। আইন ভাঙলে জরিমানা থেকে শুরু করে জেল পর্যন্ত হতে পারে।
![]()
কোথায় সেই একমাত্র মদের দোকান?
রাজধানী রিয়াধে অবস্থিত এই একমাত্র মদের দোকানটি। শুরুতে এটি খোলা হয়েছিল শুধুমাত্র বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য। পরে সরকারের তরফে নিয়মে সামান্য শিথিলতা আনা হয়, তবে তা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য নয়।
কারা এখান থেকে মদ কিনতে পারেন?
সবাই নয়। মদ কেনার অনুমতি পান—
শুধুমাত্র অমুসলিম বিদেশি নাগরিকরা
দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী
বিশেষ প্রতিভাবান বিদেশিরা
যাঁরা গত ৫ বছরে অন্তত ৩০ মাস সৌদি আরবে বসবাস করেছেন
![]()
মদ কিনতে ন্যূনতম আয় কত লাগবে?
এখানেই সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য—
মদ কিনতে হলে বছরে আয় করতে হবে অন্তত ১৩,৩০০ মার্কিন ডলার (প্রায়)।অথচ সৌদি আরবে গড় মাসিক বেতন প্রায় ১০,২৫০ রিয়াল। অর্থাৎ, মদ কেনার যোগ্যতা পেতে হলে গড় সৌদি নাগরিকের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি আয় থাকতে হবে।
আয়ের প্রমাণ না দিলে মিলবে না মদ
যাঁরা মদ কিনতে চান, তাঁদের—
পে-স্লিপ বা আয়ের নথি দেখাতে হয়
সরকার প্রদত্ত ক্লিয়ারেন্স কোড দিতে হয়
নির্দিষ্ট মাসিক সীমার বেশি মদ কেনা যায় না
এটি কার্যত এক ধরনের আর্থিক ‘ফিল্টার টেস্ট’।
![]()
সরাসরি ঢোকা যাবে না দোকানে
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়—
দোকানে হেঁটে ঢোকা যায় না
আগে মোবাইল অ্যাপে স্লট বুকিং করতে হয়
অনুমোদন না থাকলে গেটেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়
পুরো প্রক্রিয়াটিই সরকারের কড়া নজরদারিতে চলে।
বিশ্বের অন্যতম কড়া মদ-নিয়ন্ত্রণ নীতির দেশ সৌদি আরব। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের দেশে রয়েছে মাত্র একটি মদের দোকান, তাও সবার জন্য নয়। আয়ের প্রমাণ থেকে সরকারি ক্লিয়ারেন্স—সব পেরোলেই মিলবে মদ কেনার অনুমতি।













