মাঘ পূর্ণিমা ২০২৬: ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি

মাঘ পূর্ণিমা ২০২৬: ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি

মাঘ পূর্ণিমা ২০২৬-এর উৎসব ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে। হিন্দু ধর্মীয় প্রথা ও বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিকে বিশেষভাবে পুণ্যদায়ক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান ও পূজা করার মাধ্যমে পাপক্ষয় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ৫টা ৫২ মিনিটে শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৩টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। উদয়া তিথি অনুসারে মাঘ পূর্ণিমা ১ ফেব্রুয়ারিতেই পালিত হবে। মাঘ মাসকে স্নান, দান ও সংযমের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং মাঘ পূর্ণিমা এই পবিত্র মাসের সমাপ্তি তিথি হিসেবে পরিচিত।

হিন্দু ধর্মগ্রন্থে মাঘ পূর্ণিমাকে বিশেষ পুণ্য প্রদানকারী তিথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ভাগবত পুরাণ, পদ্ম পুরাণসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করলে ব্যক্তির পাপ নাশ হয় এবং ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই স্নানকে শরীরের পাশাপাশি মন ও আত্মার শুদ্ধির মাধ্যম হিসেবেও দেখা হয়।

মাঘ পূর্ণিমার দিনে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী কিংবা অন্যান্য পবিত্র নদীতে স্নানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ক্ষয় হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মাঘ মাসে সূর্য মকর রাশিতে অবস্থান করায় জলে বিশেষ আধ্যাত্মিক গুণের সংযোগ ঘটে। নদীতে স্নান করা সম্ভব না হলে, বাড়িতে স্নানের জলে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করার প্রথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মাঘ পূর্ণিমায় দানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্রীয় বিবরণে বলা হয়েছে, এই দিনে করা দান বহু গুণ ফল প্রদান করে। অন্ন, বস্ত্র, দুধ, ফল, মিষ্টান্ন ও অর্থ দানের উল্লেখ বিশেষভাবে পাওয়া যায়। পুরাণে বলা হয়েছে যে মাঘ পূর্ণিমায় দানের মাধ্যমে বহু বছরের পাপ নাশ হতে পারে।

এই তিথিতে পূজা, ব্রত ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। ঘরে বা নদীতীরে হোম, দীপদান ও আরতি করার প্রথা প্রচলিত। ভগবান বিষ্ণু ও ভগবান শিবের পূজাকে এই দিনে বিশেষ ফলপ্রসূ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পূর্ণিমা ব্রত পালন করে বহু ভক্ত সত্য, সংযম ও ভক্তির অনুশীলন করেন।

মাঘ পূর্ণিমা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সাধনা ও নিয়ম পালনের মাধ্যমে রোগ, ভয় ও দুঃখ থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। শাস্ত্রীয় সূত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে যে এই তিথিতে শ্রদ্ধা সহকারে করা আচার মোক্ষলাভের পথে সহায়ক হতে পারে। এই কারণেই প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, বারাণসীসহ বিভিন্ন তীর্থস্থানে এই দিনে বিশেষ ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মাঘ পূর্ণিমাকে আত্মচিন্তা ও মানসিক প্রশান্তির একটি উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্রানুসারে, এই দিনে শান্তচিত্তে করা ভক্তি ও সাধনা মানসিক স্থিতি ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্য প্রদান করে। সমসাময়িক জীবনে সংযম, সেবা ও আধ্যাত্মিকতার দিকে মনোনিবেশের একটি সুযোগ হিসেবেও এই তিথির উল্লেখ করা হয়।

শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে মাঘ পূর্ণিমায় স্নান, দান ও সাধনার সংযোগ একে বিশেষ পুণ্যদায়ক করে তোলে। এই তিথিতে নিয়ম ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ধর্মীয় কর্ম পালনের মাধ্যমে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভের কথা ধর্মীয় বিশ্বাসে উল্লেখ রয়েছে।

 

Leave a comment