প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা জলের খোঁজে অনেকেই ভরসা রাখছেন ফ্রিজ কিংবা প্লাস্টিকের বড় জারের উপর। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের বদলে যদি মাটির কুঁজোয় জল রাখা হয়, তাহলে তা শরীরের জন্য আরও উপকারী হতে পারে। প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা হওয়া এই জল যেমন স্বাদে আলাদা, তেমনই পরিবেশবান্ধবও।
প্লাস্টিকের বদলে ফিরছে পুরনো দিনের কুঁজো সংস্কৃতি
একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যেত পোড়া মাটির কুঁজো। গরমকালে ঠান্ডা জল সংরক্ষণের সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল এই মাটির পাত্র। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিকের ডিসপেনসার ও ফ্রিজ। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে আবারও অনেকে ফিরছেন পুরনো সেই ঐতিহ্যের দিকে।
প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা জল, নেই বিদ্যুতের খরচ
মাটির কুঁজোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে রাখা জল স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। মাটির সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে জল বাষ্পীভূত হওয়ায় ভেতরের জল ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে ফ্রিজ ছাড়াই গরমে পাওয়া যায় আরামদায়ক ঠান্ডা জল।
শরীরের জন্য কতটা উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির পাত্রে রাখা জল শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত ঠান্ডা নয় বলে এই জল গলা বা হজমের সমস্যাও তুলনামূলক কম তৈরি করে। অনেকের দাবি, নিয়মিত কুঁজোর জল খেলে হজম ক্ষমতাও ভালো থাকে।
প্লাস্টিকের ক্ষতি নিয়ে সতর্কতা চিকিৎসকদের
চিকিৎসক জে এন হালদারের মতে, দীর্ঘদিন প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্লাস্টিক থেকে নির্গত কিছু রাসায়নিক পদার্থ ভবিষ্যতে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই যতটা সম্ভব প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মাটির কুঁজো পরিবেশবান্ধব। এটি সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং পরিবেশ দূষণ বাড়ায় না। অন্যদিকে প্লাস্টিকের জার বা বোতল দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে দূষণ সৃষ্টি করে। তাই কুঁজোর ব্যবহার বাড়লে পরিবেশও উপকৃত হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
গরমে ঠান্ডা জল খেতে অধিকাংশ বাড়িতেই এখন প্লাস্টিকের ডিসপেনসারের ব্যবহার বেড়েছে। তবে চিকিৎসকদের একাংশের মতে, পোড়া মাটির কুঁজো শুধু জল ঠান্ডাই রাখে না, শরীরের জন্যও হতে পারে উপকারী। পরিবেশবান্ধব এই পুরনো পদ্ধতি আবারও ফিরছে বাংলার ঘরে ঘরে।













