স্কুলে মিড ডে মিলের খাবারে এবার আসতে পারে নতুন স্বাদ ও বৈচিত্র্য। কলকাতার পর রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলার স্কুলে PM Poshan প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের জন্য একটি প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক মেনু প্রকাশ্যে এসেছে। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চে কী কী খাবার থাকতে পারে, সেই তালিকায় মিলেছে বেশ কিছু চমক।
কলকাতার পর জেলাতেও নতুন ব্যবস্থা?
রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কলকাতার কয়েকটি স্কুলে বর্তমানে এই ধরনের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এবার সেই মডেল রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের তরফে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার এবং সামগ্রিক কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। খাবার প্রস্তুত করা থেকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে গুণমান বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সোমবার থেকে শনিবার ব্রেকফাস্টে কী থাকবে?
প্রস্তাবিত মেনু অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতিটি দিনে ব্রেকফাস্টে আলাদা আলাদা খাবার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার: চিঁড়ের পোলাও ও চাটনি
মঙ্গলবার: মুড়ি ও ঘুগনি
বুধবার: ঝাল সুজি ও চাটনি
বৃহস্পতিবার: খিচুড়ি অথবা চিঁড়ের পোলাও ও পিঠে
শুক্রবার: মুড়ি ও লাবড়া
শনিবার: ইডলি, সাম্বার অথবা মশলা চাটনি
ফলে একই ধরনের খাবার বারবার না দিয়ে সপ্তাহজুড়ে মেনুতে বৈচিত্র্য রাখার পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।
লাঞ্চের মেনুতেও থাকছে একাধিক পদ
শুধু সকালের খাবার নয়, দুপুরের মেনুতেও রয়েছে বেশ কিছু ভিন্ন পদ। প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী—
সোমবার: ভাত, ডাল এবং মটর পনির/ছোলা দিয়ে আলু অথবা ছানা দিয়ে আলুর তরকারি।
মঙ্গলবার: ভাতের সঙ্গে পাঁচমিশালি তরকারি অথবা সয়াবিন কারি এবং দই।
বুধবার: ভেজিটেবল খিচুড়ির সঙ্গে ক্ষীর, দই, কেক, লাড্ডু অথবা কুকিসের মধ্যে একটি পদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বৃহস্পতিবার: ভাত, পাঁচমিশালি তরকারি অথবা সয়াবিন কারি।
শুক্রবার: ভাত, ভেজিটেবল ডাল এবং দই।
শনিবার: ভাত, ডাল, পাঁচমিশালি সবজির তরকারি এবং সয়াবিন কারি।
এখনই চূড়ান্ত নয় এই মেনু
তবে প্রকাশ্যে আসা এই তালিকাকে এখনই চূড়ান্ত মেনু হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পড়ুয়াদের ডিম বা অন্য কোনও খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা হলে মেনুতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। অর্থাৎ পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকায় নতুন পদ যোগ বা কিছু পদ পরিবর্তন করা সম্ভব।
পুষ্টির দিকে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা
অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় খাবারের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রান্না থেকে পরিবেশন পর্যন্ত খাবারের মান বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেও মেনুতে পরিবর্তন আসতে পারে।
কলকাতায় ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে ব্যবস্থা
বর্তমানে কলকাতার কিছু স্কুলে ইসকনের উদ্যোগে এই ধরনের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে মায়াপুর ইসকনের তরফে এখনও একই ব্যবস্থা চালু হয়নি বলে সূত্রের খবর। কলকাতায় প্রকল্পটি সফল হলে রাজ্যের আরও জেলায় তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। সেই পরিকল্পনারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে জেলাগুলিতে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলার স্কুলে মিড ডে মিল বা PM Poshan প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক মেনু সামনে এসেছে। সেখানে ব্রেকফাস্টে চিঁড়ে-পোলাও, ঘুগনি, সুজি, খিচুড়ি, পিঠে ও ইডলির মতো খাবার থাকছে। লাঞ্চের তালিকাতেও রয়েছে ভাত, ডাল, সবজি, পনির, দই-সহ একাধিক পদ। তবে এই মেনু এখনও চূড়ান্ত নয়।











