মৌরলা মাছ খেতে যতটা সুস্বাদু, পরিষ্কার করতে ততটাই ঝক্কি! ছোট আকারের এই মাছ বঁটি দিয়ে কাটতে গেলে অনেক সময় চটকে যায় বা ভেঙে যায়। আবার বাজার থেকেও সবসময় এই মাছ পরিষ্কার করে দেওয়া হয় না। ফলে বাড়িতে একসঙ্গে অনেকটা মৌরলা এলে চিন্তায় পড়েন গৃহিণীরা। কিন্তু এবার আর সেই চিন্তা নয়। সামান্য কিছু ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করেই দ্রুত পরিষ্কার করা যাবে ঝুড়ি ভরা মৌরলা।
নখ বা কাঁচি দিয়েই পাখনা ও কানকো পরিষ্কার
মৌরলা মাছের আকার ছোট হওয়ায় সবসময় বঁটি বা ছুরি ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। হাতের নখ দিয়ে মাছের পাখনা, কানকো ও লেজের অংশ আলতো করে তুলে ফেলা যায়।এরপর মাছের পেটের দিকে সামান্য চিরে হালকা চাপ দিলেই ভিতরের নাড়িভুঁড়ি বের করে নেওয়া সম্ভব। হাতে করতে অসুবিধা হলে ছোট কাঁচি ব্যবহার করে পাখনা ও কানকো ছেঁটে নিতে পারেন।
নারকেলের মালা দিয়ে উঠবে আঁশ
মৌরলার আঁশ পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করতে পারেন নারকেলের মালা। প্রথমে মাছগুলো একটি বড় প্লাস্টিকের ঝুড়িতে নিন। তারপর কলের জলের নীচে রেখে নারকেলের মালা দিয়ে মাছের গায়ে আলতোভাবে গোল করে ঘষতে থাকুন।কিছুক্ষণ ঘষার পর মাছের আঁশ ও ময়লা ঝুড়ির ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে নীচে রাখা পাত্রে জমতে থাকবে। কয়েকবার এভাবে পরিষ্কার করলেই মাছ অনেকটাই ঝকঝকে হয়ে যাবে।তবে খুব জোরে ঘষা উচিত নয়। মৌরলা মাছ অত্যন্ত নরম হওয়ায় বেশি চাপ দিলে মাছ ভেঙে যেতে পারে।
প্লাস্টিকের ঝুড়িও হতে পারে কাজে
নারকেলের মালা না থাকলেও সমস্যা নেই। ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের ঝুড়ি ব্যবহার করেও মৌরলার আঁশ পরিষ্কার করা যায়।মাছগুলো ঝুড়িতে নিয়ে ছিদ্রযুক্ত অংশের উপর আলতো করে ঘষে ঘুরিয়ে নিন। নীচে একটি পাত্র রাখুন এবং জল দিয়ে ধুতে থাকুন। এতে মাছের গা থেকে উঠে আসা আঁশ ও ময়লা নীচের পাত্রে জমা হবে।হাতে মাছ ঘষতে অস্বস্তি হলে পরিষ্কার গ্লাভস ব্যবহার করাই ভালো। অপরিষ্কার বা পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের প্যাকেট সরাসরি খাবার ধরার কাজে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
লেবু ও নুনে দূর হবে আঁশটে গন্ধ
মাছ পরিষ্কার করার পর ভালোভাবে ধুয়ে একটি পাত্রে নিন। এরপর সামান্য নুন ও লেবুর রস মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিতে পারেন। তারপর পরিষ্কার জলে হালকা হাতে ধুয়ে নিন।এতে মাছের গায়ের পিচ্ছিলভাব ও আঁশটে গন্ধ কিছুটা কমতে পারে। এরপর পরিষ্কার ঠান্ডা জলে আরও কয়েকবার ধুয়ে ঝাঁঝরিতে রেখে জল ঝরিয়ে নিন।
আঁশ ছাড়াতে ব্যবহার করা যায় চামচও
ছোট মাছের আঁশ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে স্টিলের চামচ বা মসৃণ ধাতব পাত্রের ধারও কাজে লাগানো যায়। তবে মৌরলা মাছ অত্যন্ত নরম হওয়ায় বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।মাছ পরিষ্কারের সময় ধারালো কাচ বা অন্য বিপজ্জনক বস্তু ব্যবহার করলে হাতে কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপদ ও সহজ উপকরণ ব্যবহার করাই ভালো।
মৌরলা মাছ আকারে ছোট ও নরম হওয়ায় পরিষ্কার করতে বেশ ঝামেলা হয়। বঁটি বা ছুরি ব্যবহার করলে মাছ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল মেনে চললে খুব সহজেই মৌরলার আঁশ, পাখনা, কানকো ও নোংরা পরিষ্কার করা সম্ভব।













