বিপত্তি থেকে ভক্তির জয়যাত্রা! ১৭৫ বছরের ঐতিহ্যে আজও উজ্জ্বল নন্দবাড়ির বাসন্তী পুজো

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দ পরিবারের ১৭৫ বছরের বাসন্তী পুজো আজও টিকে আছে ঐতিহ্য ও ভক্তির বন্ধনে। জানুন এই পুজোর ইতিহাস ও বিশেষত্ব।

ঐতিহ্য, ইতিহাস আর অটুট বিশ্বাস—এই তিনের মিলনেই গড়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দবাড়ির বাসন্তী পুজো। ১৭৫ বছরের এই পুজো আজও সময়ের স্রোত পেরিয়ে টিকে আছে ভক্তি ও পারিবারিক বন্ধনের শক্তিতে।

‘মুগবেড়িয়ার মাটিতে ১৭৫ বছরের ইতিহাস’

ভগবানপুর-২ ব্লকের মুগবেড়িয়া গ্রামে নন্দ পরিবারের এই বাসন্তী পুজো এক অনন্য ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। আগের মতো জাঁকজমক না থাকলেও ভক্তি ও আচার-অনুষ্ঠানের কোনও খামতি নেই। প্রতি বছরই দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন।

‘এক বিপত্তিই বদলে দিল জীবনের মোড়’

এই পুজোর সূচনা করেছিলেন নন্দ পরিবারের পূর্বপুরুষ ভোলানাথ নন্দ। শিকার করতে গিয়ে বন্য শুয়োরের আক্রমণে গুরুতর আহত হন তিনি। সেই ঘটনাই তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। এরপরই ভক্তিভরে বাড়ির সামনে নাটমন্দির নির্মাণ করে শুরু করেন বাসন্তী পুজো—যা আজ পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত।

‘পুজোর সঙ্গে বদলেছে ভাগ্যের চাকা’

পুজো শুরুর পর থেকেই নন্দ পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি হতে থাকে। একসময় এই পরিবার এলাকায় জমিদারি প্রভাব বিস্তার করে। সেই সময় পুজো ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ, গ্রামজুড়ে তৈরি হত উৎসবের পরিবেশ।

‘জমিদারি জৌলুস ফিকে, তবু টিকে আছে রীতি’

সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর আড়ম্বর কমেছে। আগে যেখানে একাধিক মোষ ও ছাগ বলির প্রচলন ছিল, এখন তা সীমিত হয়ে এসেছে। নবমীর দিনে দু’টি ছাগ বলি দেওয়া হয়। অনেক পুরনো রীতিই এখন ইতিহাসের অংশ।

‘একসঙ্গে বহু দেবীর আরাধনা’

এই পুজোয় শুধু বাসন্তী দুর্গাই নন, মা শীতলা ও মা অন্নপূর্ণারও আরাধনা করা হয়। প্রতিদিন নিয়ম মেনে হোমযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি হয় এই পুজোকে ঘিরে।

‘পারিবারিক মিলনমেলা, ঐতিহ্যের বন্ধন’

বর্তমানে ভোলানাথ নন্দের বংশধররাই এই পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পুজোর সময় বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ফিরে আসেন। চারদিন ধরে নন্দবাড়ি যেন মিলনমেলার রূপ নেয়, যেখানে ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়া গ্রামে ১৭৫ বছরের প্রাচীন নন্দ পরিবারের বাসন্তী পুজো আজও টিকে রয়েছে ঐতিহ্য ও ভক্তির বন্ধনে। এক দুর্ঘটনার পর শুরু হওয়া এই পুজো আজও ভক্তদের টানে ভরিয়ে তোলে গ্রাম।

Leave a comment