গ্রামবাংলার চেনা তালগাছ এখন শুধুই ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং বজ্রপাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারে— এমনই দাবি পরিবেশবিদদের। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় তালগাছ লাগানোর উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বাড়ির আশেপাশে তালগাছ থাকলে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সুরক্ষা মিলতে পারে।
বজ্রপাত রুখতে তালগাছের গুরুত্ব
গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বজ্রপাত এখন বাংলার বহু জেলার বড় আতঙ্ক। বিশেষ করে খোলা মাঠ, রাস্তা কিংবা গ্রামীণ এলাকায় বজ্রাঘাতে প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছের উচ্চতা এবং সরু গঠন বজ্রপাতকে আকর্ষণ করতে সক্ষম। ফলে সরাসরি মানুষের উপর বজ্রপাতের সম্ভাবনা কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।
কার্বনের স্তরই বড় ভূমিকা নিচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, তালগাছের বাকলে পুরু কার্বনের স্তর থাকে। এই স্তর বজ্রপাতের ইলেকট্রন কণা শোষণে সহায়ক হতে পারে। ফলে বজ্রপাতের শক্তি কিছুটা হলেও গাছের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশবিদ Dilip Patra জানান, “বর্তমান সময়ে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করতে তালগাছের গুরুত্ব অপরিসীম।”
গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছ
একসময় গ্রামের রাস্তা, মাঠ কিংবা নদীর ধারে প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ন ও গাছ কাটার প্রবণতার কারণে এখন সেই সংখ্যা দ্রুত কমছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এই গাছ শুধু বজ্রপাত প্রতিরোধেই নয়, ভূমিক্ষয় রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর।
বজ্রপাত প্রবণ এলাকায় বাড়ছে সচেতনতা
পরিবেশবিদদের পরামর্শ, রাস্তার ধারে, খোলা মাঠে এবং গ্রামীণ এলাকায় বেশি করে তালগাছ লাগানো উচিত। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতিও কিছুটা কমতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাও জরুরি
যদিও তালগাছকে বজ্রপাতের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ বলা হচ্ছে, তবুও শুধুমাত্র গাছের উপর নির্ভর না করে সরকারি বজ্রপাত সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বজ্রবিদ্যুৎ চলাকালীন খোলা মাঠে না থাকা, বড় গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছকে ‘প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ’ বলছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। তাঁদের দাবি, তালগাছের উচ্চতা, গঠন এবং বাকলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভূমিক্ষয় ও পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই গাছের।













