আন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডুতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৬

আন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডু জেলায় বাস ও ১৫ যাত্রীবোঝাই অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অটোরিকশাটি ভুল দিকে মোড় নিয়ে বাসের সামনে আসার কথা জানানো হয়েছে।

আন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডু জেলায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অটোরিকশায় ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ভুল দিকে মোড় নেওয়ার পর অটোরিকশাটি বাসের সামনে চলে আসে। দুর্ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি চিলকালুরিপেট মণ্ডলের অড্ডা রোডের কাছে ঘটে। বিজয়ওয়াড়া থেকে তিরুপতি যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে ১৫ জন যাত্রীবোঝাই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নরসারাওপেটের ডিএসপি এম. হনুমন্ত রাও জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিজয়ওয়াড়া থেকে তিরুপতি যাওয়া বাসটি চিলকালুরিপেটের কাছে বাইপাসে এক যাত্রীকে তোলার জন্য থেমেছিল। যাত্রীকে নেওয়ার পর বাসটি নরসারাওপেট বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

এই সময় কালা মন্দির জংশনের কাছে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি রাস্তার বিপরীত দিকে মোড় নিয়ে বাসের সামনে চলে আসে। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার সময় বাসটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

পুলিশের মতে, অটোরিকশাটিতে মোট ১৫ জন ছিলেন। সাধারণত অটোরিকশায় এত সংখ্যক যাত্রী বহনের অনুমতি থাকে না। তাই গাড়িটিতে এতজন যাত্রী কী পরিস্থিতিতে উঠেছিলেন, তা-ও তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।

দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে গাড়িটির ভারসাম্য ও নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব পড়েছিল, সেটিও তদন্তের বিষয়। দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিস্তারিত তদন্তের পরই জানা যাবে।

সংঘর্ষের পর একাধিক যাত্রী অটোরিকশার ভিতরে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনায় চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি থেকে বের করে আনেন।

অন্য আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে। আরও ছয়জনের চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং আঘাতের গুরুত্বের ওপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

দুর্ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাঁরা পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের বের করে আনতে সাহায্য করেন। পরে পুলিশ ও চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশা ও বাস সরানোর ব্যবস্থাও করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অটোরিকশাটি রাস্তার ভুল অংশে মোড় নিয়ে বাসের সামনে চলে আসার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বাসচালকের গতি এবং রাস্তার পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডুতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৬

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য রেকর্ড করছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে রাস্তার অবস্থা, যানবাহনের চলার দিক এবং সংঘর্ষের সময়কার পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থার ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশ দুই গাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে গাড়ির চলার দিক, গতি, রাস্তার অবস্থা, আলো, ট্রাফিক সংকেত এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয় রয়েছে।

কোনও গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, অথবা রাস্তার ভুল দিকে মোড় নেওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজও তদন্তে ব্যবহার করা হতে পারে।

সাতজনের মৃত্যু এবং শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাসপাতাল ও প্রশাসন মৃতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করছে।

পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোন পর্যায়ে গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট হবে। পুলিশের সরকারি রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রায় ১টার দিকে পালনাডু জেলার চিলকালুরিপেট মণ্ডলে ঘটে। বিজয়ওয়াড়া থেকে তিরুপতি যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে ১৫ জন যাত্রীবোঝাই অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ভুল দিকে মোড় নিয়ে বাসের সামনে চলে এসেছিল।

দুর্ঘটনায় চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। ছয়জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ এবং দুই গাড়ির চলাচল-সংক্রান্ত সব দিক তদন্ত করছে।

 

Leave a comment