পাইলস বা অর্শ—নামটা শুনলেই অনেকের অস্বস্তি। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, এখন শুধু বয়স্করা নন, কমবয়সিরাও এই সমস্যায় ভুগছেন। সকালে শৌচালয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও কম ফাইবারযুক্ত খাবারই এই রোগের প্রধান কারণ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
দীর্ঘক্ষণ শৌচালয়ে বসা থেকেই শুরু বিপদ
অনেকেরই সকালে উঠে শৌচকর্ম সারতে এতটাই সময় লাগে যে অফিস বা কাজে বেরোতেই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, দিনের পর দিন এমন হলে শুধু মানসিক চাপ নয়, মলদ্বারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে তৈরি হতে পারে পাইলসের সমস্যা।
বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে কমবয়সিদের মধ্যেও পাইলস
এক সময় এই রোগকে বয়স্কদের সমস্যা বলেই ধরা হত। কিন্তু এখন ২৫–৪০ বছর বয়সিদের মধ্যেও পাইলসের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, কম জল পান করা এবং ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ততাই এর অন্যতম কারণ।
পাইলসের প্রধান লক্ষণ কী কী?
চিকিৎসক প্রসেনজিৎ চৌধুরীর মতে, পাইলস বা অর্শের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়—
মলত্যাগের সময় বা পরে কাঁচা রক্তপাত
তীব্র যন্ত্রণা বা জ্বালা
মলদ্বারে অস্বস্তি ও ফোলা ভাব
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
এই লক্ষণগুলি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খাওয়াদাওয়ায় বদল আনলেই মিলতে পারে স্বস্তি
পুষ্টিবিদদের মতে, পাইলস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা নেয় খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে, ফলে অর্শের যন্ত্রণা কমে।
কোন খাবার রাখবেন পাতে?
নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন—
আলুবোখরা
নাসপাতি
আপেল
বার্লি
মিষ্টি আলু
বিভিন্ন শাকসব্জি
এগুলি মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগের সময় চাপ কমায়।
কোন অভ্যাস এড়ানো জরুরি?
অতিরিক্ত ঝাল ও তেলেভাজা খাবার
দীর্ঘক্ষণ শৌচালয়ে বসে থাকা
কম জল পান করা
শারীরিক পরিশ্রম একেবারে না করা
এই অভ্যাসগুলি পাইলসের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সকালবেলার শৌচকষ্ট, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ভুল খাদ্যাভ্যাস—এই তিনের জেরেই বাড়ছে পাইলস বা অর্শের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো জীবনযাত্রা ও খাবারে পরিবর্তন আনলে পাইলসের যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।













