২৫, ৩০, ৩৫ না ৪০—কোন বয়সে মা হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ? কোন বয়সে বাড়ে ঝুঁকি? স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

২৫, ৩০, ৩৫ না ৪০—কোন বয়সে মা হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ? কোন বয়সে বাড়ে ঝুঁকি? স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

বর্তমান সময়ে কেরিয়ার, আর্থিক স্থিতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মহিলাই দেরিতে মা হওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু বয়স বাড়লে কি সত্যিই গর্ভধারণ কঠিন হয়ে যায়? কোন বয়সে সন্তান ধারণ সবচেয়ে আদর্শ, আর কোন বয়সে বাড়ে জটিলতার আশঙ্কা—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই দিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

নারীর শরীর ও জৈবিক ঘড়ির বাস্তবতা

চিকিৎসকদের মতে, একজন নারীর শরীর একটি প্রাকৃতিক ‘জৈবিক ঘড়ি’ মেনে চলে। জন্মের সময় শরীরে লক্ষ লক্ষ ডিম্বাণু থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সংখ্যা ও গুণমান দুইই কমতে থাকে। হরমোনের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে, যা সরাসরি উর্বরতার উপর প্রভাব ফেলে।

২০–৩০ বছর: উর্বরতার সেরা সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত মহিলাদের উর্বরতা সবচেয়ে ভালো থাকে। এই সময় ডিম্বাণু সুস্থ থাকে, হরমোনের ভারসাম্যও অনুকূল থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি এবং গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

৩০–৩৫ বছর: সতর্কতা প্রয়োজন

৩০ বছরের পর ধীরে ধীরে ডিম্বাণুর গুণমান কমতে শুরু করে। বিশেষ করে ৩৫ বছর পার হলে গর্ভধারণে সময় বেশি লাগতে পারে। যদিও এই বয়সে মা হওয়া মোটেই অসম্ভব নয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি।

৩৫–৪০ বছর: ঝুঁকি বাড়লেও অসম্ভব নয়

৩৫ বছরের পর গর্ভপাত, জেনেটিক সমস্যার ঝুঁকি এবং উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা বাড়তে পারে। ৪০-এর কোঠায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হলেও সম্ভাবনা কমে যায়। তাই এই বয়সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ নজরদারি অপরিহার্য।

বয়সের সঙ্গে বাড়ে কোন কোন ঝুঁকি?

বয়স বাড়লে ডিম্বাশয়ে জেনেটিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর ফলে গর্ভপাত, ক্রোমোজোমজনিত সমস্যা এবং গর্ভধারণে জটিলতার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই ৩০ বা ৩৫-এর পর মা হওয়ার আগে প্রি-কনসেপশন চেকআপের উপর জোর দেন চিকিৎসকেরা।

বয়স নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু বয়সই নয়—ওজন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ঘুম, ব্যায়াম এবং নিয়মিত মাসিক চক্রও উর্বরতাকে প্রভাবিত করে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স কিছুটা বেশি হলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনা ভালো থাকে।

দেরিতে মা হওয়ার পরিকল্পনা? বিকল্পও আছে

অনেক মহিলা কেরিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে গর্ভধারণ দেরিতে করতে চান। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ডিম্বাণু সংরক্ষণ (Egg Freezing)-এর মতো বিকল্প ভাবা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে মাতৃত্বের সম্ভাবনা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ৩০ পেরোলেই কি ঝুঁকি বেড়ে যায়? ৩৫ বা ৪০-এ মা হওয়া কি বিপজ্জনক? চিকিৎসকদের মতে, বয়স অবশ্যই প্রভাব ফেলে, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা থাকলে দেরিতে মাতৃত্বও হতে পারে নিরাপদ।

Leave a comment