পুজোর আগে ওজন কমানোর চ্যালেঞ্জ ওটসই হতে পারে সহায়ক

পুজোর আগে ওজন কমানোর চ্যালেঞ্জ ওটসই হতে পারে সহায়ক

পুজোর এক-দেড় মাস বাকি থাকতে শরীরকে ফিট ও সুসজ্জিত রাখার তাড়া শুরু হয়। বহু মানুষ এক বা দুই কেজি কমানোই বড় লক্ষ্য ধরে রাখেন, যাতে নতুন জামা বা সাড়ি মানিয়ে যায়। তবে সময় সীমিত থাকায় দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টায় অনেকে খালি পেটে থাকা বা কষ্টকর উপবাসের পথ বেছে নেন। কিন্তু এই পথ শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেই তুলনায় সঠিক ডায়েট গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন ওটস খাওয়া, শরীরকে স্বাভাবিকভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর জন্য শুধুমাত্র কম খাওয়া নয়, বরং পুষ্টিকর খাবার সঠিক সময়ে খাওয়া আরও ফলপ্রসূ।

ওটস কীভাবে সাহায্য করে ওজন কমাতে:

ওটস একাধিক দিক থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এক বাটি ওটস খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ পূর্ণ থাকে, যার ফলে ক্ষণক্ষণে ক্ষুধা লাগার ইচ্ছা কমে। এতে অতিরিক্ত খাবারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে আসে। এছাড়া ওটসে থাকা ‘বিটা-গ্লুকান’ নামের ফাইবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রোটিন সমৃদ্ধ ওটস দেহের চর্বি হ্রাসে ভূমিকা রাখে। আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই খাদ্যশস্য শুধু ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ওটস খাওয়ার সঠিক নিয়ম:

সঠিকভাবে ওটস খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ব্রেকফাস্ট হিসেবে এক বাটি ওটস খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। দুধ, ফল বা বাদাম মিশিয়ে খেলে পুষ্টি আরও বৃদ্ধি পায়। বিকালে হালকা ওটস স্ন্যাক হিসেবে খাওয়া যেতে পারে, তবে রাতে ভারী ওটস খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ওটসের সঙ্গে চিনি বা মিষ্টি না মেশানোই ভালো, কারণ অতিরিক্ত চিনির কারণে ওজন কমানো প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও ব্যায়ামের সঙ্গে মিলিয়ে ওটস খাওয়া ফলপ্রসূ।

স্বাস্থ্য সচেতন পরামর্শ:

উপবাস বা চটজলদি ডায়েটের পরিবর্তে নিয়মিত ওটস খাওয়াই শরীরকে নিরাপদে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওটস শুধু খাওয়া নয়, এটি এক ধরনের লাইফস্টাইলেও পরিণত হওয়া উচিত। পুষ্টিকর ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ব্যায়াম মিলিয়ে ওটস খেলে শরীর সুস্থ, ফিট এবং রোগমুক্ত থাকবে। পুজোর আগে স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হিসেবে ওটসকে গ্রহণ করা যেতে পারে।

Leave a comment