Weekend Trip: শুধু শান্তিনিকেতন নয়, বীরভূমের রাজনগরও এক ‘স্বপ্নভূমি’, তবু কেন পর্যটকশূন্য?

Weekend Trip: শুধু শান্তিনিকেতন নয়, বীরভূমের রাজনগরও এক ‘স্বপ্নভূমি’, তবু কেন পর্যটকশূন্য?

সিউড়ি: বীরভূমের রাজনগর একসময় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল কেন্দ্র। মোগল আমল থেকে নবাবি শাসন এবং স্বাধীনতার পরবর্তী গ্রামীণ সভ্যতার বিকাশ—সব যুগে এই এলাকার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পাহাড়, জলাশয়, মন্দির ও মাজারে ঘেরা রাজনগরের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মিশেল এককথায় অনন্য।

ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো

রাজনগরে বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শন আজও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে। পুরনো ইমামবাড়া, বারুদঘর, সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতি বহন করা ফাঁসিমঞ্চের গাবগাছ, এবং রাজপরিবারের স্নানাগার—all এই স্থাপনাগুলো অতীতের গল্প বলে। তবে সংরক্ষণের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে অনেক নিদর্শন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত।

প্রকৃতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধন

কুশকর্ণী নদীর তীরবর্তী আদিবাসী গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও বনাঞ্চলের সৌন্দর্য রাজনগরকে পর্যটনের জন্য আদর্শ করে তোলে। স্থানীয় গ্রামীণ সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, থাকার সুযোগ নেই, প্রচার কম এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির জটিলতা—এসব কারণে পর্যটকরা এখনও এ অঞ্চলে আসছেন না।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সিউড়ি অঞ্চলের পর্যটন বিশেষজ্ঞ সুরেয়া সুলতানার মতে, সঠিক উদ্যোগ নিলে রাজনগর সহজেই বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। সিউড়ি-বোলপুর থেকে নিয়মিত বাস পরিষেবা, মানসম্মত হোটেল-গেস্টহাউস, খাবারের দোকান ও হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলাই এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটন বৃদ্ধির চাবিকাঠি।

হাতের নাগালে আকর্ষণীয় স্থানসমূহ

বক্রেশ্বর মন্দির, উষ্ণ প্রস্রবণ, মাসানজোর ড্যাম, পাথরচাপুড়ি মাজার, দুবরাজপুর মামা-ভাগ্নে পাহাড়—all সবই রাজনগর থেকে মাত্র ১৫–২০ কিমির মধ্যে। ইতিহাস, পাহাড়, জলাশয় ও মন্দির-মাজার মিলিয়ে এটি পর্যটনের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্ভাবনাময় স্থান।

বীরভূমের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাজনগর ইতিহাস, পাহাড়, নদী, মন্দির-মাজারে ভরপুর এক স্বপ্নভূমি। তবে দুর্বল যোগাযোগ, থাকার সুযোগের অভাব ও প্রচারের ঘাটতির কারণে পর্যটকরা এ এলাকা থেকে দূরে থাকছেন। সঠিক উদ্যোগে এটি সহজেই বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

Leave a comment