নিপ্রোতে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ১৪, আহত ১৪, রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপর আঘাত

ইউক্রেনের নিপ্রো শহরের রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ফের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ইউক্রেনের নিপ্রো শহরের একটি রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। যে রেল প্ল্যাটফর্মে হামলা চালানো হয়, সেখানে যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রেনটি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ইউক্রেনের সরকারি রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়ার (Ukrzaliznytsia) তথ্য অনুযায়ী, নিপ্রো থেকে জাপোরিজিয়া যাওয়ার ৮৬৬ নম্বর ট্রেনের কাছের প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেই সময় ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতোভ জানিয়েছেন, রুশ ড্রোন যাত্রীবাহী ইলেকট্রিক ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে বহু যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার আগে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। যাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন যাত্রী প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের আশপাশে ছিলেন।

ড্রোন হামলার পর রেলস্টেশন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিপ্রোপেত্রোভস্ক আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দ্র হানঝার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনীয় আধিকারিকদের দাবি, হামলার শিকার হয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঘটনার পর রেল প্রশাসন নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হামলার আগে জারি করা সতর্কবার্তার কার্যকারিতা পর্যালোচনা শুরু করেছে।

রেলস্টেশনে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ঘটনাটিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

জেলেনস্কির বক্তব্য, এই ধরনের হামলা বন্ধ করতে রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার চাপ বজায় রাখা প্রয়োজন।

ইউক্রেন সরকারও নাগরিক পরিবহণ ব্যবস্থার উপর হামলাকে গুরুতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে রাশিয়ার তরফে তাৎক্ষণিক কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিপ্রোতে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ১৪, আহত ১৪, রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপর আঘাত

ইউক্রেনের রেল নেটওয়ার্কে হামলার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েছে। সরকারি রেল সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে রেল পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় ১,৬০০-র বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই হামলায় রেলস্টেশন, ট্রেন, ইঞ্জিন এবং পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫০০-র বেশি রেল ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে ২০২৬ সালে।

ইউক্রেনে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি খাদ্যশস্য, খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় পণ্য এবং ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসা, কৃষিপণ্যের পরিবহণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপর।

ইউক্রেনের প্রাক্তন উপ-পরিবহণমন্ত্রী ভাসিল শেভচেঙ্কোর মতে, একটি রেল ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট পুরো রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ডিজেল ইঞ্জিনে থাকা জ্বালানির কারণে আগুন লাগার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ড্রোনের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর জন্য ইউক্রেনের রেল সংস্থা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেছে। বিপদের খবর পাওয়া গেলে ট্রেন থামানো এবং যাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।

সেপ্টেম্বর মাসে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ৫,৮৩১টি ট্রেন থেকে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত অনেক যাত্রীকে খোলা জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্রেন চলাচলও একাধিক ঘণ্টা ধরে ব্যাহত হয়। একটি ট্রেনকে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখতে হয়েছিল।

নিপ্রোর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ইউক্রেনের নাগরিক রেল পরিবহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চলমান চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে। যাত্রীদের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে রেল প্রশাসনকে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

 

Leave a comment