সরস্বতী পুজো মানেই কি শুধুই পড়াশোনার খাতা আর ফুলের তোড়া? হাওড়ার বালিতে এসে সেই ধারণা ভেঙে যায় মুহূর্তেই। জলাশয়ের ধারে দাঁড়ালেই চোখের সামনে ধীরে ধীরে জলের মধ্য থেকে ভেসে উঠছে দেবী সরস্বতী—এমন দৃশ্য প্রতি বছরই হাজার হাজার দর্শককে টেনে আনে বালির প্রফুল্ল সমিতির পুজোয়।

৮০ বছরের ঐতিহ্য, আজও অটুট চমক
বালির প্রফুল্ল সমিতির সরস্বতী পুজো এবছর ৮০ বছরে পা দিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে একই ভাবনাকে ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন, ঐতিহ্য আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনেই লুকিয়ে রয়েছে এই পুজোর সাফল্যের রহস্য।
জলের বুক চিরে দেবীর আবির্ভাব
এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রতিমা দর্শনের অভিনব পদ্ধতি। একটি বড় পুকুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। নির্দিষ্ট সময় পর মেশিনচালিত ব্যবস্থায় মণ্ডপের ভিতর থেকে ধীরে ধীরে জলের মধ্যে বেরিয়ে আসেন দেবী সরস্বতী। এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ছোট-বড় সকলেই।

রাজস্থানের ‘শীষ মহল’ থিমে রাজকীয় সাজ
২০২৬ সালের থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাজস্থানের বিখ্যাত ‘শীষ মহল’। আয়না, আলোর কারুকাজ আর জলরাশির প্রতিফলনে পুরো মণ্ডপ যেন এক রাজকীয় আবহ তৈরি করেছে। সন্ধ্যার আলোয় এই মণ্ডপ হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর।
দুর্গাপুজোকেও টেক্কা দর্শক-আকর্ষণে
জেলায় দুর্গাপুজোর সময় যেমন থিম-প্যান্ডেল নিয়ে হইচই হয়, ঠিক তেমনই সরস্বতী পুজোয় বালির এই পুজো হয়ে উঠেছে আলাদা পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক দর্শকের মতে, প্রতিমা বেরোনোর এই অভিনব প্রক্রিয়া দুর্গাপুজোর বহু বড় প্যান্ডেলকেও টেক্কা দেয়।

পুজোর সঙ্গে মেলার আনন্দ
শুধু প্রতিমা আর মণ্ডপ নয়, দর্শকদের জন্য রয়েছে ছোটখাটো মেলাও। নাগরদোলা, খাবারের স্টল, খেলনার দোকান—সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে এই পুজো প্রাঙ্গণ।

হাওড়ার বালি এলাকার প্রফুল্ল সমিতির সরস্বতী পুজো মানেই চমক। ৮০ বছরে পা দেওয়া এই পুজোয় জলাশয়ের মাঝখান থেকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বেরিয়ে আসছে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা। এবছর রাজস্থানের ‘শীষ মহল’ থিমে সাজানো মণ্ডপ দর্শকদের চোখে-মুখে বিস্ময় ছড়াচ্ছে।













