দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রল আর নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সংযোগ—এই আধুনিক জীবনযাপনেই নীরবে বাসা বাঁধছে ঘুমের অভাব। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমালে শরীর ধীরে ধীরে ভিতর থেকে ভেঙে পড়ে। আয়ু কমার পাশাপাশি ত্বকে দ্রুত বুড়োটে ছাপ পড়াও এখন আর বিরল নয়।
ঘুমের অভাব এখন লাইফস্টাইল রোগ
একসময় ঘুমের সমস্যা ব্যক্তিগত অভ্যাসের ফল বলে মনে করা হলেও, এখন তা কার্যত একটি লাইফস্টাইল প্যানডেমিক। ইন্টারনাল মেডিসিন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, তাঁদের কাছে আসা বহু রোগীর মূল সমস্যা একটাই—নিম্নমানের বা অপর্যাপ্ত ঘুম।
শরীরে কী কী ক্ষতি করছে কম ঘুম?
প্রতিদিন মাত্র ১–২ ঘণ্টা ঘুম কম হলেও শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রভাব পড়ে—
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট: কর্টিসল ও ইনসুলিন বেড়ে গিয়ে ওজন বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়
ত্বকে অকালবার্ধক্যের ছাপ দেখা দেয়
নীল আলোই ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু
ফোন, ল্যাপটপ ও টিভি থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হলেও মস্তিষ্ক থাকে জাগ্রত অবস্থায়। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীর যোগ
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে দেখা দিতে পারে—
উদ্বেগ
খিটখিটে মেজাজ
মুড সুইং
বিষণ্ণতা
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানসিক সমস্যার গোড়ায় থাকে ঠিকমতো না ঘুমোনো।
৭ মোক্ষম উপায়ে ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি
নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুম ও জাগা
প্রতিদিন একই সময়ে শোওয়া ও ওঠা শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখে।
ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ
মোবাইল বা টিভি নয়—বই পড়া বা হালকা গান শোনা ভালো বিকল্প।
সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক ঘুমে বাধা দেয়।
ঘুমের ঘর রাখুন শীতল ও অন্ধকার
আলো ও শব্দ কম থাকলে ঘুম গভীর হয়।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ঘুমের মান বাড়ায়।
দেরিতে ভারী খাবার নয়
রাতে ভারী খাবার হজমে সমস্যা করে, ঘুম ভাঙে বারবার।
অতিরিক্ত কাজের চাপ কমান
ঘুমকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখুন।
দীর্ঘদিন ঠিকমতো ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই নয়, বাড়ে হৃদরোগ, হরমোনের সমস্যা, মানসিক অবসাদ ও অকালবার্ধক্যের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অভ্যাস বদলালেই ঘুমের মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।













