পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে “স্টাইল” বা “স্ট্রেস রিলিফ”-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসকদের মতে, সিগারেটের তামাক ধীরে ধীরে শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট করে দিচ্ছে, ফলে দম্পতিদের গর্ভধারণের পথে তৈরি হচ্ছে বড় বাধা।
শুক্রাণুর উপর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান পুরুষদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যার ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। শুধু তাই নয়, শুক্রাণুর গতিশীলতাও (motility) দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষেকের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
DNA ক্ষতি ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
IVF বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের বিষাক্ত উপাদান শুক্রাণুর DNA fragmentation বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং গর্ভধারণ সফল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
পরোক্ষ ধূমপানও সমান ঝুঁকিপূর্ণ
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, শুধু সক্রিয় ধূমপান নয়—পরোক্ষ ধূমপানও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
IVF চিকিৎসাতেও কমে যায় সফলতার হার
গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ী পুরুষদের ক্ষেত্রে IVF বা অন্যান্য সহায়ক প্রজনন চিকিৎসার সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম। কারণ শুক্রাণুর গুণমান খারাপ থাকলে ভ্রূণ তৈরি ও বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: এখনই ধূমপান ছাড়ুন
চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ত্যাগ করা শুধু একটি অভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি চিকিৎসাগত পদক্ষেপ। দ্রুত ধূমপান ছাড়লে স্বাভাবিক গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
ধূমপান শুধু ফুসফুস বা হৃদযন্ত্র নয়, পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নতুন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক শুক্রাণুর সংখ্যা কমায়, গতিশীলতা দুর্বল করে এবং DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে—যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।













