আধুনিক খেলাধুলার জগতে পারফরম্যান্স ম্যানেজ করতে অনেক মহিলা অ্যাথলিট পিরিয়ড ডিলে পিল ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই হরমোনাল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং গর্ভধারণে সাময়িক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
পিরিয়ড ডিলে পিল কীভাবে প্রভাব ফেলে শরীরে
গাইনিকোলজিস্টদের মতে, পিরিয়ড ডিলে করার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ মূলত হরমোনের উপর কাজ করে। এটি শরীরের স্বাভাবিক হরমোন চক্রকে সাময়িকভাবে পরিবর্তন করে, যার ফলে মাসিক পিছিয়ে যায়। কিন্তু এই পরিবর্তনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ওভুলেশন প্রক্রিয়া অস্থায়ীভাবে ব্যাহত হতে পারে।
গর্ভধারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ওষুধ নিয়মিত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে হরমোনাল ইমব্যালান্স দেখা দিতে পারে। ফলে গর্ভধারণে দেরি বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করার পর শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
শরীরকে স্বাভাবিক হতে সময় দেওয়া জরুরি
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পিরিয়ড ডিলে পিল বন্ধ করার পর শরীরকে অন্তত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় দেওয়া উচিত। এই সময়ের মধ্যে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং হালকা ব্যায়াম হরমোন ব্যালান্স পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়
গাইনিকোলজিস্টরা সতর্ক করেছেন, অনেক মহিলা অ্যাথলিট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এই ধরনের ওষুধ গ্রহণ করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ প্রতিটি শরীরের হরমোনাল প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে, ফলে ভুল ব্যবহারে সমস্যা বাড়তে পারে।
স্ট্রেসও বড় ভূমিকা রাখে
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ওষুধ নয়—মানসিক চাপও হরমোন চক্রে প্রভাব ফেলে। ফলে অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে শারীরিক চাপের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়াবিদ মহিলাদের মধ্যে পিরিয়ড ডিলে পিল ব্যবহারের কারণে সাময়িক হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলেই মত গাইনিকোলজিস্টদের।













