বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল শুধু পর্দার নায়কই ছিলেন না, পরিবারের কাছেও ছিলেন একজন আদর্শ বাবা। ফাদার্স ডে-তে বাবাকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগঘন স্মৃতির পাশাপাশি তাঁর শেষ চিকিৎসা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মেয়ে সোহিনী পাল। তাঁর দাবি, আইসিইউ-তে চিকিৎসার সময় একটি বড় ভুলের জেরেই বাবাকে হারাতে হয়েছিল।
বাবা হিসেবে ছিলেন একেবারে অন্যরকম
সোহিনীর কথায়, সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির ভিতরে তাপস পাল ছিলেন একেবারে সাধারণ একজন বাবা। অভিনয়ের ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও মেয়ের স্কুলের পেরেন্টস-টিচার মিটিং, স্পোর্টস ডে কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন তিনি। কাজের চাপ কখনও পরিবারের প্রতি তাঁর দায়িত্বকে প্রভাবিত করেনি।
মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে
তাপস পাল চেয়েছিলেন মেয়ে উচ্চশিক্ষিত হোক। তবে সোহিনী অভিনয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে কোনও বাধা দেননি। বরং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। মুম্বইয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার সময়ও বাবা-মেয়ের যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সোহিনীর দাবি, তাঁর ফোন কখনও তিনবারের বেশি বেজে উঠতে দিতেন না বাবা।
কী ঘটেছিল শেষ চিকিৎসার সময়?
২০২০ সালে মুম্বইয়ে মেয়ের বাড়িতে থাকার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাপস পাল। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে ভেন্টিলেশন থেকে সাড়া মিললেও, এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।সোহিনীর অভিযোগ, ডায়ালিসিস চলাকালীন সেন্ট্রাল লাইনের অবস্থান পরিবর্তনের সময় গুরুতর ভুল হয়। এর ফলে শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেক দেরিতে বিষয়টি ধরা পড়ায় তাঁর হিমোগ্লোবিন বিপজ্জনকভাবে কমে যায় এবং পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন অভিনেতা।
হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, পরে বদলায় মানসিকতা
বাবার মৃত্যুর পর হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সোহিনী। তাঁর বিশ্বাস ছিল, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষোভ অনেকটাই কমেছে। এখন তাঁর উপলব্ধি, হয়তো বাবার জীবনের সময় তখনই শেষ হয়ে এসেছিল। তবুও বাবাকে হারানোর শূন্যতা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
ফাদার্স ডে উপলক্ষে প্রয়াত অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ তাপস পালের স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর মেয়ে সোহিনী পাল। বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেছেন হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসার সময় ঘটে যাওয়া এক গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ, যা শেষ পর্যন্ত অভিনেতার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে তাঁর দাবি।









