হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক Vinod Khanna ১৯৮০-র দশকের শীর্ষে থাকতেই হঠাৎ সব ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটেন। ১৯৮২ সালে তিনি Osho-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পুনে আশ্রম ও পরে আমেরিকার ওরেগন কমিউনে চলে যান। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী কবিতা খান্না সেই সময়কার বহু অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন।

তারকা জীবন ছেড়ে সন্ন্যাসের পথে
‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির সাফল্যের পরও ১৯৮২ সালে সিনেমা ছেড়ে দেন বিনোদ খান্না। তখন ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনা চলছিল, তিনি নাকি Amitabh Bachchan-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। সেই সময়েই তিনি ওশোর দর্শনে আকৃষ্ট হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।
ওরেগন কমিউনের অস্থিরতা
কবিতা খান্নার দাবি, আমেরিকার ওরেগনে ওশোর কমিউনে নানা বিতর্ক ও অস্থিরতা চলছিল। সেই কমিউন নিয়েই তৈরি হয়েছিল নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় তথ্যচিত্র Wild Wild Country।ওশোর সেক্রেটারি Ma Anand Sheela-র নেতৃত্বে কমিউনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি জল সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিনোদ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানান কবিতা।

সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্নতা
বিনোদ খান্নার প্রথম স্ত্রী গীতাঞ্জলির দুই ছেলে—অক্ষয় ও রাহুল। দীর্ঘ সময় তাঁদের থেকে দূরে থাকাটা অভিনেতার মানসিকভাবে গভীর আঘাতের কারণ হয়েছিল। কবিতা জানান, সন্তানদের জন্য তিনি প্রায়ই ভেঙে পড়তেন।
ওশোর সান্নিধ্য ও বিচ্ছেদ
ওরেগনে থাকাকালীন বিনোদ নাকি ওশোর মালী হিসেবেও কাজ করতেন এবং তাঁর পোশাক পরতেন। পরে ভারতে ফিরে এলে ওশো তাঁকে পুনে আশ্রমের দায়িত্ব নিতে বলেন, কিন্তু বিনোদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সেটিই ছিল তাঁদের শেষ সাক্ষাৎ।

বলিউডে প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক অধ্যায়
ওরেগন থেকে ফিরে গভীর মানসিক ধাক্কা সামলেও তিনি আবার অভিনয়ে ফেরেন এবং সাফল্য পান। পরবর্তীতে রাজনীতিতেও যোগ দেন। ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন।

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা Vinod Khanna-র জীবনের এক বিতর্কিত অধ্যায় আবার সামনে এল। দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না জানালেন, কীভাবে সবকিছু ছেড়ে তিনি Osho-র আশ্রমে সন্ন্যাস নেন, ওরেগন কমিউনে থাকেন এবং গভীর মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যান। পরে অবশ্য তিনি চলচ্চিত্র ও রাজনীতিতে সফল প্রত্যাবর্তন করেন।













